অফস্ক্রিন

টলিপাড়ার ভ্রূণ পাচার

অনির্বাণ চৌধুরী

ছবি মেয়ে পাচার নয়, ফোকাসটা রেখেছে ভ্রূণ পাচারের ওপর। ছবি-

বুদ্ধদেব দাশগুপ্তর মন্দ মেয়ের উপাখ্যান মনে আছে? অথবা, বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাঁটাতার, অনুপ সেনের রাতের রজনীগন্ধা? টলিপাড়ার এমন অনেক ছবিতেই মেয়েদের নিয়ে ব্যবসা, সেই সূত্রে মেয়ে পাচারের ছবি দেখা গেছে। কিন্তু ভ্রূণ পাচার? সেটা এবার শুভাশিস মুখোপাধ্যায় করছেন, সমীর বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ‘এক্সপোর্ট, মিথ্যে কিন্তু সত্যি’-তে অভিনয়ের সৌজন্যে।
আসলে মেয়েদের নিয়ে যে ব্যবসাটা খুব সহজে হয়, তার ছবি টলিপাড়ায় দেখা গেছে বিস্তর। প্রায় ফি বছরেই একবার করে দেখা যায় বললে ভুল হয় না। প্রত্যেকটা ছবিরই বক্তব্য ঘুরিয়ে এবং ফিরিয়ে মোটের ওপর একই- বাধ্য হয়ে মেয়েদের শরীরের ওপর পুরুষের খবরদারি মেনে নেওয়া এবং হয় সেই আবর্তে আটকে থাকা, নয় তো বেরিয়ে আসা। এর বাইরে যৌন ব্যবসা নিয়ে ছবি করলে টলিপাড়া যায় না। এখানেই কিস্তি মাত করতে চলেছেন সমীর বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ছবি মেয়ে পাচার নয়, ফোকাসটা রেখেছে ভ্রূণ পাচারের ওপর।
‘এক্সপোর্ট, মিথ্যে কিন্তু সত্যি’-তে শুভাশিস অভিনীত চরিত্রটার নাম বঙ্কা। বঙ্কার আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভাল নয়। কাজের খোঁজে কাগজে একটা বিজ্ঞাপন দেখে সে কপাল ঠুকে চিঠি পাঠিয়ে দেয়। বিজ্ঞাপনদাতা অরিন্দম মুখোপাধ্যায়ের কাছ থেকে উত্তরও আসে। বঙ্কার কাজ পাকা, তবে শর্তমাফিক কাজ নিয়ে কোনও প্রশ্ন সে করতে পারবে না। কেন না, কাজটা খুব একটা সুবিধের নয়। বঙ্কাকে মেয়ে এক্সপোর্ট করতে হবে। তাও এমন মেয়ে, যে সদ্য গর্ভবতী হয়েছে! আর অতি অবশ্যই মেয়েটিকে থাকতে হবে বিপদের মধ্যে। হাতে লন্ঠন নিয়ে খুঁজে খুঁজেও এমন মেয়ে বঙ্কা বের করতে পারছিল না।
বঙ্কাকে এহেন কাজের চাপ থেকে বাঁচাল একদিন তার বউ। বলল, এক দম্পতি পড়েছে মহা বিপদে। স্বামীটি, যার নাম হুলো, তার হাতে কোনও কাজ নেই। ওদিকে তার বউ ঘটু সদ্য গর্ভবতী। কী যে করবে তারা, কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না। সুযোগটাকে কাজে লাগায় বঙ্কা। যেভাবে অর্থনৈতিক কারণে গ্রামাঞ্চল থেকে মেয়েরা পাচার হয়ে যায়, সেই টোপ ফেলেই ঘটুকে পাচার করতে চায় বঙ্কা। বঙ্কার কী হবে, ঘটু-হুলোরই বা কী, অরিন্দম মুখোপাধ্যায়েরই বা সদ্য গর্ভবতী মেয়ের শখ কেন- সব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে ছবিটি মুক্তি পেলে।
এই মুহূর্তে অবশ্য একটা প্রশ্নের উত্তর না পেলেই নয়। এমন একটা স্পর্শকাতর ব্যাপারকে এতটা নির্মমভাবে কেন ছবির বিষয় করলেন সমীর বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিচালকের সাফ জবাব, ‘অনেক মানুষের ভিতরেই একটা পশু লুকিয়ে থাকে। এমনিতে দেখলে বোঝা যায় না, কিন্তু ওই পশুটা যেমন মানুষটার নিজের পক্ষে বিপজ্জনক, তেমনই সমাজের পক্ষেও। আমার ছবি ভেতরের এই পশুটাকে বাইরে নিয়ে আসবে’। বেশ কথা, দর্শক তবে রইলেন মুখোশ খোলার অপেক্ষায়। সে মুখোশ খোলার পর ছবিটা কেমন লাগবে তাঁদের, তার বিচার নির্দিষ্ট সময়েই হবে।
ছবি : সমীর বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

অন্যরা যা পড়ছেন

এই বিষয়ে আরও

জনপ্রিয়

সমস্ত ভিডিও

অজয়ের সিংহম রিটার্নস

রিলায়েন্স এন্টারটেইনমেন্ট

দেখেছেন 0 জন

দীপিকার খুশি আর প্রেম

ফক্স স্টার হিন্দি

দেখেছেন 0 জন

শহিদ কপূর আর শেক্সপিয়ার

ইউটিভি মোশন পিকচার্স

দেখেছেন 0 জন