এই শহর
স্বপ্ন কল্পনায় বছর শেষের রাত
আশিস পাঠক
কলকাতা, ৩০ ডিসেম্বর ২০১২
বর্ষশেষের রাত যখন ক্রমেই ঢুকে পড়বে উঞ্চ আদরের অন্দরে তখনই একেবারে অন্য রকম স্বপ্ন নিয়ে প্রতি বছর মঞ্চে হাজির হয় অন্য থিয়েটার। ‘নাট্যস্বপ্নকল্প’। এ শহরে বর্ষবরণের রাতটা বেশ কয়েক বছর ধরে এ ভাবেই উদ্যাপন করে ‘অন্য থিয়েটার’। সংস্কৃতির সে এক সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হাঁটা। যেমন রাতভর ‘তিন বাঁড়ুজ্জে’। বিভূতিভূষণ, তারাশঙ্কর ও মানিক তিন বাঁড়ুজ্জের গল্প থেকে নাটক নিয়েই এক বার তিন বাঁড়ুজ্জের গল্প থেকে ছোট ছোট নাটকের রাতভর উপস্থাপন হল। নির্দেশনা দিলেন রমাপ্রসাদ বণিক, ব্রাত্য বসু, কৌশিক সেন, আশিস চট্টোপাধ্যায় এবং অদ্রিজা দাশগুপ্ত। পাশাপাশি তিন বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্প থেকে শ্রুতি-সংকলন ‘কথা উপকথা রূপকথা’য় ছিলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, দ্বিজেন বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলন রায়, সৌমিত্র মিত্র ও ছন্দা চট্টোপাধ্যায়। সে দিনই তিন লেখককে নিয়ে অ্যাকাডেমিতে বললেন জয় গোস্বামী। এ বার তেমনই একটা নতুন পরিকল্পনা। শেক্সপিয়রের ‘মিডসামার্স নাইটস ড্রিম’, ‘চৈতালি রাতের স্বপ্ন’ নামে বাংলায় অনুবাদ করেছিলেন উত্পল দত্ত। ১৯৬৪-তে তাঁরই নির্দেশনায় অভিনীতও হয়েছিল সে নাটক। প্রায় পঞ্চাশ বছর পরে সে নাটক আবার অন্য থিয়েটারের প্রযোজনায়। বর্ষশেষের দু’দিন অ্যাকাডেমি ও রবীন্দ্রসদনে অন্য থিয়েটার-এর বার্ষিক উত্সব নাট্যস্বপ্নকল্প-এ অবন্তী চক্রবর্তীর নির্দেশনায় অভিনীত হচ্ছে নাটকটি। থাকছে বিমল মিত্র, জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের লেখা থেকে নাটক এবং তিনটি থ্রিলার নাটকও।
এই কথাটাই একবার জিগ্যেস করা হয়েছিল ‘অন্য থিয়েটার’-এর কর্ণধার বিভাস চক্রবর্তীর কাছে। বিভাস মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, “বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল সম্পদগুলিকে নাট্যমঞ্চে নিয়ে আসবেন তাঁরা, এই রকম একটা ঘোষণা করা হয়েছিল বহুরূপী-র সূচনাপর্বে। কিন্তু বহু স্মরণীয় নাটক উপহার দিলেও এ ব্যাপারে কার্যত তাঁরা কিছুই করে উঠতে পারেননি। উত্পল দত্তও তিতাস একটি নদীর নাম ছাড়া ও পথে হাঁটেননি। অজিতেশও না। কিন্তু আমরা নাট্যস্বপ্নকল্পের শুরু থেকেই বাংলা সাহিত্যের কাছে ফিরে গিয়েছি। বহু আগে বোর্ড থিয়েটারে এই ধারাটা ছিল।” সেই ধারাই বহন করে চলেছে নাট্যস্বপ্নকল্প। ধ্রুপদীকে নতুন করে জাগানোর ধারা সে নাটকই হোক বা সাহিত্য।













