চলতি হাওয়া

জীবন হোক স্ট্রেস-ফ্রি

উজ্জয়িনী মুখোপাধ্যায়
কলকাতা, ২২ নভেম্বর, ২০১২

how to get a stressless life

স্বাস্থ্যকর হাল্কা খাবার ফিগারটাও ঠিকঠাক রাখে। ছবি- ফাইল চিত্র

চলতি সময়ে কর্মরতা মহিলাদের নিজেদের জন্য সময় পাওয়াটাই এক মস্ত বড় ব্যাপার! কীই বা করবেন তাঁরা? সকালবেলায় চাকরিতে যাওয়ার আগেই হাতে হাতে বাড়ির কিছু কাজ সেরে ফেলা, তারপরে সারাদিনের জন্য টালমাটাল টেনশন-ওয়ার্ক লোড সামলে দিনের শেষে বাড়ি ফিরেই আবার ঘরের টুকিটাকি কাজ সেরে ফেলা! তার ওপরে যদি ছেলের বাংলা রচনাটা লিখে দিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে মনোমালিন্যটাকে সামলাতে হয়, আর বরের পটলের দোলমা খাওয়ার স্নেহভরা আবদারটা- তাহলে তো পোয়া বারো!

এরকমইভাবেই জীবন কাটে মিমির! ব্যস্ত জীবনের এই রুটিনটির মাঝে এতগুলো স্পর্শকাতর জায়গা থেকে এতরকমের দাবি-আবদার-দায়িত্ব পূরণের জেরে নিজেই প্রায় চিঁড়ে-চ্যাপ্টা হওয়ার জোগাড় হয়ে যায় মাঝে মাঝে। ফলে এক বেসরকারি এনজিও-তে কাজ করা মিমি সবগুলো চাপকেই বেশ হাসি মুখে সামলাতে চাইলেও মাঝে মাঝেই কালো মুখের মেঘের দেখা তাকে পেতেই হয়; না চাইতেও! অথচ বরকে বলতে গেলেই সে বলে, এমনটা সব মানুষেরই হয়, মিমিরই নাকি সমস্যা বা চাপ ট্যাকল করার ক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। মিমি কী বলছে এ ব্যাপারে?

'কেউ বুঝতেই পারে না- অফিসের বস আমার থেকে প্রিয়াকেই যে সবসময় বেশি ফেভার করে, হাজার হাড়ভাঙা খাটুনি খাটলেও সবসময় প্রোমোশনটা পায় প্রিয়া, ছুটিছাটা নিয়ে আমায় অনেক প্রশ্ন করে সেটা দেওয়ার আগে, কিন্তু প্রিয়ার বেলায় বিনা বাক্যব্যয়ে ছাড় দিয়ে দেয়। এই স্ট্রেসের পরে আবার বাড়িতে ছেলেকে ঠান্ডা মাথায় পড়াতে না-পেরে দু' ঘা কষিয়ে দিলে শাশুড়ির মিষ্টি মুখের ঝামটা সহ্য করতে হবে! এরকম স্ট্রেস থেকে যে বেরোনো যায় কীভাবে', থাকতে না পেরে বলেই ফেললো মিমি!

বলাই বাহুল্য, আলট্রা-মডার্ন সময়ের সব মহিলারই এরকম স্ট্রেস ব্যাপারটা বেশ চেনা। তাই শুধু মিমি নয়, কাজের ক্ষেত্রেই হোক বা বাড়িতে, ব্যক্তিগত জীবনেই হোক বা সামাজিক- দীর্ঘদিনের এক অসম্ভব স্ট্রেসের মুখোমুখি হতে থাকা সব নারীরই উচিত স্ট্রেস মুক্তির কিছু সহজ জিনিস মাথায় রাখা। যোগাসন, প্রাণায়াম, মিউজিক থেরাপি- এসব তো আছেই, এছাড়াও খাবারের হাল্কা কিছু রকমফের করতে পারলেই ফিরিয়ে আনা যায় জীবনের হারিয়ে যাওয়া সেই সুর।

এখন কথা হল, এত কিছু দায়িত্বের মাঝে ঠিক সময়ে ঠিক খাবারটাও কি খাওয়ার সুযোগ পান মহিলারা? পান যে না, সেটা তো গৌরী শিন্দে তাঁর 'ইংলিশ ভিংলিশ' ছবিতে আমাদের দেখিয়েই দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে উপায়? ব্যাগে রাখুন কিছু হেলদি খাওয়ার জিনিস। লাগাতার স্ট্রেস থেকে একটু ছুটি নিতে সময়ে সময়ে খেয়ে নিন প্রোটিন বার, মাল্টি ফাইবার বিস্কুট, স্ন্যাক্স আইটেম, টক দই, বাদাম জাতীয় কিছু না কিছু! ক্রমাগত চলতে থাকা চাপ থেকে বেশ অনেকখানি মুক্তি পাবেন এভাবেই মুখ-চালানোর মাধ্যমেই।

তাছাড়া দিনের বাকি মেন কোর্সগুলোতেও হাল্কা তেলের খাদ্যকেই প্রেফার করুন নিজে। বাজারে ইদানিং গুচ্ছের লাইট-অয়েলের ছড়াছড়ি; বাজেট মেপে-বুঝে হেঁশেলে নিয়ে আসুন তেমনই কিছু। খাবারে তেল-ঘি যত কমবে, মশলা যত হাল্কা হবে- ততই স্ট্রেস-ফ্রি থাকবে শরীর আর মন। আসলে ভারি খাবারটা যে শরীরকেও ভারি করে দেয়। আর কে না জানে- শরীর চলতে না চাইলে মনও চলতে চায় না! তাই মনে রাখবেন- ফ্যাটি খাবার নয়, এনার্জি ও প্রোটিনে ভরা খাবার একটা নির্দিষ্ট গ্যাপে খেতে পারলে কিছুটা হলেও দূরে রাখতে পারবেন আপনার স্ট্রেসগুলোকে। তারপর যোগা বা প্রাণায়াম বা মনপসন্দ যে কোনও থিওরি ট্রাই করুন।

পুনশ্চ : মাথায় রাখুন, স্বাস্থ্যকর হাল্কা খাবার কিন্তু ফিগারটাও ঠিকঠাক রাখে। সেটা ঠিক থাকলেই স্বামীও আপনার পাশে! তখন কিন্তু অনেক স্ট্রেস আপনা থেকেই কমে যাবে!

 

অন্যরা যা পড়ছেন

এই বিষয়ে আরও

জনপ্রিয়

সমস্ত ভিডিও

"ব্রহ্মাস্ত্র ১৩৭"

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 52 জন

খুনের আসামী শিক্ষিকা চম্পাদেবী

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 56 জন

ললিত মোদীর গড়াপেটা বোমা

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 48 জন

জানতে চাও সে কেমন ছেলে?

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 95 জন

মাধুরীর ঘাঘরায় রণবীর ফিদা

টিসিরিজ

দেখেছেন 175 জন