চলতি হাওয়া
চাঁদের বুকে মধুচন্দ্রিমা
উজ্জয়িনী মুখোপাধ্যায়
কলকাতা, ১০ ডিসেম্বর, ২০১২
'ও চাঁদ সামলে রেখো জোৎস্নাকে'! এমনটা আপনি ২০২০ সালের কোনও এক সকালে পছন্দের সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে আচমকাই গেয়ে উঠতেই পারেন! কেননা, আপনি যে চাঁদের মতো মধুর আলোর দেশে নয়, একেবারে সরাসরি চাঁদেই যাচ্ছেন মধুচন্দ্রিমায়! তারপর চাঁদে পৌঁছে গেলে একবার, তখন চাঁদমামা জোৎস্নাকে সামলে না রাখলেই বা কী, ঝলমলে আলোতে মন-প্রাণ ধুয়ে ফেলে চন্দ্রপৃষ্ঠে মধুচন্দ্রিমায় মেতে উঠতেই পারেন দু'জনে!
হেঁয়ালি বলে মনে হচ্ছে কেন? নীল আর্মস্ট্রং চাঁদে গিয়ে নেচেকুঁদে আসতে পারেন, আর আপনি মধুচন্দ্রিমায় চাঁদে যেতে পারেন না? মানছি, ওইসব লাইফ জ্যাকেট-ট্যাকেট ভেদ করে চাঁদে মধুচন্দ্রিমা যাপন বেশ হ্যাপার ব্যাপার; তবু টিকিট কেটে রকেট চেপে চাঁদে যাওয়ার প্রস্তাব এলে আপনি কি যাবেন না? তা বলে এক্ষুনি যেতে চাইলে যাওয়ার ডিটেক্স দিতে পারব না; তবে হ্যাঁ, ২০২০ সালে চাঁদে যাবেন বললে বাতলে দিতে পারি তার পথ। এখনও বোধগম্য হচ্ছে না কি?
বেশ, এবার তাহলে সরাসরি আসা যাক চাঁদে যাওয়ার সুলুকসন্ধানে। ২০২০ সালে আপনাদের দুজনের মন চাইলেই আর পকেট সম্মতি দিলেই একটি ব্যক্তিগত ট্রিপে চলে যেতে পারেন চাঁদে। খরচ পড়বে মাত্র ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। 'গোল্ডেন স্পাইক' নামে একটি সংস্থা এশিয়া ও অন্যান্য দেশের স্পেস এজেন্সিগুলোকে এহেন সুখবর জানিয়ে আহ্বান করেছে প্রস্তাবটি ভেবে দেখতে ও সেইমতো সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে! এবং সংস্থাটির সিইও এবং প্রেসিডেন্ট নাসা স্পেস মিশন ডিরেক্টরেট-এর প্রাক্তন ডিরেক্টর অ্যালেন স্টার্ন ব্যাপারটি নিয়ে ইতিমধ্যেই বেশ আশাণ্বিতও; কেননা কোনও দেশই এমন ভাল ব্যাপারকে সাহায্য করতে পিছ-পা নয়।
সত্যি বলতে কী, মানুষ যদি বরফজমাট মেরুপ্রদেশে যেতে পারে, বিপদসঙ্কুল গহন অরণ্যে যেতে পারে, তবে চাঁদেই বা নয় কেন? কৃত্রিম বন্দোবস্তের সাহায্যে সেখানেও মেলে অক্সিজেন, মেলে খাবার-দাবার। অভিযাত্রীরা তো যাওয়া-আসা করছেই; অতএব যাতায়াতের অসুবিধে নেই বললেই চলে। অসুবিধে ওই একটাই- বিপুল পরিমাণ খরচ! তা, সেটা দিতে যদি কারও গায়ে না লাগে, তবে সে চাঁদে পা ফেলতে পারবে না-ই বা কেন?
এমন একটা ভাবনাচিন্তা থেকেই 'গোল্ডেন স্পাইক' সংস্থাটির অ্যাপোলো ১৭’-র শেষ লঞ্চের ৪০তম জয়ন্তীতে গত ৭ই ডিসেম্বর জেরি গ্রিফিন (প্রাক্তন অ্যাপোলো ফ্লাইট ডিরেক্টর এবং এখনকার গোল্ডেন স্পাইক এর চেয়ারম্যান) আনুষ্ঠানিক ভাবে খবরটি পৌঁছে দেন বিশ্ব-দরবারে। সেই মতো নিজের নিজের দেশের নাগরিকদের চন্দ্রলোকে পায়চারির স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে উদ্যোগ নিচ্ছে বিভিন্ন দেশগুলো! তবে চাঁদে যাওয়ার এমন সহজ পন্থা বাতলে দিলেও এই মুহূর্তে ঠিক করা হয়নি এই চাঁদ ভ্রমণের স্পেস ক্যাপসুল বা স্পেসশিপ ঠিক কেমন ডিজাইনের হবে! যে আকাশতরী স্বপ্নকে সার্থক করে তোলে, তার নকশা তো আর যা-তা হতে পারে না। তাই এখন পুরোদমে কাজ চলছে সেই স্পেসশিপ নির্মাণের। তবে খুব বেশি দিনও হা-পিত্যেশ করে অপেক্ষা করতে হবে না; ওঁরা আশা করছেন ২০১৪-র মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে টিকিট কেটে চাঁদে পৌঁছাবার বিলাসভ্রমণ যানটি!
তবে আর কী, ভবিষ্যতে 'আয় আয় চাঁদমামা টি দিয়ে যা' আর বলতে হবে না আপনার খুদেকে; হয়তো দেখবেন সাধ্য থাকলে সে সোজা চলে যাবে চাঁদ সফরে... কাটিয়ে আসবে মধুচন্দ্রিমা বিলাসময়তায় !













