চলতি হাওয়া

শীত লগনের বিয়ে

গুলশনারা
কলকাতা,১৬ ডিসেম্বর ২০১২

biye

বিয়ের সিজন মানেই সাবেকমুখী। ছবি- নিজস্ব চিত্র।

এই সেদিনই আলোচনা হচ্ছিল। চলতি মরশুম কিসের মরশুম? সোয়েটার-টুপি-হুডারের মরশুম যে একবারেই নয়, সেকথা একবাক্যে মেনে নিল সবাই? ফিচেল হেসে একজন বলল, চলতি মরশুম বিয়ের ফুল ফোটার মরশুম। ছোটবেলার শীতের রচনায় চন্দ্রমল্লিকা, সূর্যমুখী, ডালিয়ার চ্যাপ্টার পেরিয়ে বড়বেলা এলেই জানান দেয়, খানিক শীত-শীত মানেই এবার আশেপাশে সানাই-সুরে বিয়ে-বিয়ে গন্ধ ছড়াল বলে। এমনিতেই বিয়ে না ইয়ে, তা নিয়ে জেন ওয়াই হরেক বিতর্ক তুলে একাকার করেছে। কিন্তু তবু লাজুক মুখে বিয়ে-সমারোহের সাবেক কালের ঘটা নিয়ে কিন্তু বেশ উৎসাহ এ প্রজন্মের। লিভ-ইন, ওয়ান নাইট স্ট্যান্ডের 'প্রগতিশীলতা'-র পাঠ চুকিয়ে একবার বিয়ের জল গায়ে মাখতে ইচ্ছুক চলতি প্রজন্ম, একেবারে আইবুড়ো ভাত থেকে অষ্টমঙ্গলা সবেতেই ভীষণ বাধ্য-সাবেকি হয়ে যায়। ঠিক এইখান থেকেই সেদিনের আড্ডার টপিক জমে গেল। পদবি না রাখার ফ্যাশন থেকে শুরু করে নিষিদ্ধ মাংস গপাগপ সাঁটানো, সবেতেই আদ্যন্ত 'আধুনিকতা ও প্রগতিশীলতা'-র প্যাকেজে নিজেদের মুড়ে ফেলছে তরুণ প্রজন্ম।

কিন্তু কোথাও কোথাও ডিসকাউন্টের মতোই বিয়ের ক্ষেত্রে এ প্রগতিয়ানায় সামান্য ফাঁক আর কী! মানে যেমন ধরুন, পরিবারের কেউ মারা গেলে মাথা মুড়িয়ে শ্রাদ্ধাদি করার পাট তুলে দেওয়াও চলে, কিন্তু সাধ করে বিয়ের পিঁড়িতে প্রথমবার বসার লগ্নে সব নিয়ম কানুন একেবারে পাঁজি-মন্ত্র ধরে মেনে চলাই যে নিয়ম এখন। এহেন শাস্ত্রসম্মতিকে প্রগতিশীলতার বাইরে একেবারেই দেখছে না ইয়ং বং, বরং ভীষণভাবে নিউক্লিয়ার পরিবারে ইংলিশ মিডিয়াম কালচারে বড় হওয়া জেন ওয়াই অন্তত, বিয়ে নামক সামাজিক বন্ধনের আড়ালে শাড়ি-ধুতি কস্টিউম থেকে উপোস-মন্ত্রোচ্চারণ ও বিদেশে থাকা আত্মীয় পরিবেষ্টিত হয়ে আপন সংস্কৃতিতে গা সেঁকতে চাইছে। হোক তা জীবনে একবার। কিন্তু এ অ্যালবামের ছবি স্মৃতিতে ধূসর হওয়ার আগে অব্দি, কয়েক দিনের জন্য ভীষণ বাঙালি হওয়ার বাহক বটে। রেজিস্ট্রি সেরে দিনান্তের যৌথ রিসেপশনের কিছুদিন আগের প্রগতিবাদী মানসিকতা ঝেড়ে জেন ওয়াই আবার বিয়ের সিজন মানেই সাবেকমুখী। খানিক বাধ্য।

অতুল সুরের 'ভারতের বিবাহের ইতিহাস' থেকে জানা যায়, বিষয়সম্পত্তির যোগ্য উত্তরাধিকারের জন্যই প্রাচীন ভারতে বিবাহ নামক সামাজিক উৎসবের সূচনা। পান-সুপুরি দিয়ে দূরদেশের আত্মীয় সমাগমে বিয়ে মানেই যে কোনও পরিবারে সাজো-সাজো রব। ম্যারেজ অ্যাক্ট লাগু হওয়ার পর থেকে বিয়ের নিয়ম-পণপ্রথার বিরুদ্ধে আবার খড়্গহস্ত হয়েছে তরুণরাই। ধারালো অস্ত্রে সিঁদুরদান প্রথা বা সম্প্রদান-কনকাঞ্জলি-ভাত-কাপড় ইত্যাদি উপাচার বা বিয়ের মন্ত্রে মেয়েদের ছোট করে দেখানোর বিরুদ্ধে প্রগতিশীলতার নামে রেজিস্টার ডেকে একদিনে সব ঝামেলা চুকিয়ে দেওয়া। কিন্তু দামী হোটেলে মোচার ঘণ্ট খেতে অভ্যস্ত এই প্রজন্ম যে বারবার পুরাতনকে খুঁজে পেতে চাইছে। গয়নায় পুরাতনের ছোঁয়া, ব্লাউজের কুঁচি হাতায় ঠাকুর বাড়ি মনে করাচ্ছে- তাই বিয়ের উপাচারের ভজঘট নিয়ম মানার আনন্দে খানিক মশগুল থাকতে চায় 'অত্যন্ত ফাস্ট' তরুণ বর-কনে। বিষয়টা এই রকম, বিয়ে তো মাত্র একবারই করব (এ নিয়ে বিতর্ক পরে উঠুক বরং)।

অতএব ওই কটা দিনের খাতিরে ফেমিনিজম, মর্ডানিজম না কপচিয়ে গমগমে লোকের মাঝে বাসি বিয়ের ল্যাটা মাছ ধরার খেলায় মাতলে মন্দ কী! পুরনো বন্ধুকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে পাওয়ার দিনটাতে, চেলি-বেনারসিতে-চন্দনে মাখামাখি সেই মেয়েটাকেই শুভদৃষ্টির লগ্নে পানের ফাঁকে এক্কেবারে অচেনা-রহস্যজনক ভাবে নতুন লাগে যে। এই ভাললাগাটুকু ফেসবুক-ট্যুইটারের শেয়ারিং-এর যুগে আরও বেশি সার্বজনীন। হট-স্প্যাগেটির মেয়েটি বিয়ের উপোসি ক্লান্ত শরীরেও কেমন পূর্ণবতী লাজুক নারী হয়ে উঠল, এই ক্ষণিকের নিয়ম-নিয়ম খেলায় তা বেশ লাগে। প্রগতিশীলতা বা পরবর্তীকালের কন্টিনেন্টাল ব্রেকফাস্ট এতে তাল কাটে না বলেই মনে করে জেন ওয়াই। আর যারা পিঁড়িতে না বসে, এই আনন্দে গা ভাজতে যাচ্ছেন, তাদের বলি নিজেরাও খানিক পুরাতনী কস্টিউম আর গ্রুমিং-এ আসুন, দেখবেন অতীত স্মৃতিচারণায় এক সময় বেশ লাগবে।

অন্যরা যা পড়ছেন

এই বিষয়ে আরও

জনপ্রিয়

সমস্ত ভিডিও

জিৎ-শুভশ্রীর নতুন খেলা

রিলায়েন্স এন্টারটেনমেন্ট রিজিওনাল

দেখেছেন 26 জন

হিজড়াদের স্বীকৃতি সুপ্রিম কোর্টের

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 12 জন

অর্জুন-আলিয়ার ব্রেক-আপ

টি-সিরিজ

দেখেছেন 12 জন

মোহনবাগানের কোচ হবেন মরগ্যান?

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 9 জন

বৈশাখী ভোজন

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 159 জন