চলতি হাওয়া

মেদ নয়, মেধা বাড়ুক

উজ্জয়িনী মুখোপাধ্যায়
কলকাতা,১৮ ডিসেম্বর ২০১২

obessity

মোটা বাচ্চাদের সমস্যা অনেক রকমের। ছবি- নিজস্ব চিত্র।

কর্ণ জোহর-এর সেই বিখ্যাত ছবিটা মনে আছে- 'কভি খুশি কভি গম'? সেখানে হৃত্বিক রোশনের ছোটবেলাটা মনে আছে? সেই যে বাচ্চা ছেলেটা কেবল খেতে ভালবাসত আর তাই নিয়ে তাকে নাস্তানাবুদ করে তুলত বন্ধুদের দল? এমনকি তার দাদাও তাকে 'লাড্ডু' বলে মাঝেসাঝে খোঁটা দিতে ছাড়ত না। বড় হওয়ার পরে সেই যখন সাক্ষাৎ অ্যাডোনিস হয়ে উঠল, তখনও কিন্তু পূর্বস্মৃতি ভুলে গিয়ে খোঁটা দিতে বাদ দেয়নি প্রেমিকাও- 'আই লাভ লাড্ডু' বলে প্রোপোজ করার মধ্যে দিয়েই সেটা বিলক্ষণ টের পাওয়া গিয়েছিল। ওটা নেহাতই একটা ছায়াছবি হলেও মোটা বাচ্চাদের যে এইজাতীয় সমস্যা থাকেই- সেটা কি আর অস্বীকার করা যায়?

কিন্তু হরমোনের কারণে ওবিস না হলে চলতি সময়ের অনেক বাচ্চাই কেন খুব তাড়াতাড়ি অতিরিক্ত মেদ জমিয়ে ফেলছে? কারণ একটা নয়; বরং অনেকগুলো! হাজার একটা বাজারচলতি জাঙ্ক ফুড, চকোলেট, চিপস, ক্যালোরি ঝরানো অ্যাক্টিভিটির অভাব- এভাবে এক এক করে কারণের সংখ্যা বাড়বে বই কমবে না। তবে সবচেয়ে বেশি ভয়ানক কারণটা বোধহয় মা-বাবাদের তাদের থেকে প্রত্যাশা! সে কারণেই ইঁদুর-দৌড়ে নাম লিখিয়ে খেলাধুলোর সময় একটুও না-পাওয়া, বেশির ভাগ সময়টাই বাড়িতে বই মুখে বসে থাকা এবং এন্টারটেনমেন্ট হিসেবে টিভি দেখতে দেখতে, ভিডিও গেম খেলতে খেলতে এন্তারসে চিপস-চকোলেট-কোল্ড ড্রিঙ্কস গলাধঃকরণ করা! এবার যদি শরীরের পরতে পরতে জাঁকিয়ে বসে মেদ, তাহলে তার দোষ কী!

এই যেমন সাত্যকি! জন্মের পর থেকেই মা-বাবা বেশ ঘটা করে এই নাম রেখেছিলেন। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যেমন হামা দেওয়া থেকে টলমল করে হাঁটা বা আধো-আধো কথা থেকে স্পষ্ট কথা বলা শিখল ও, তখনই নামটা সাত্যকি থেকে বদলে হল হিপো! সাত্যকি বন্দ্যোপাধ্যায়, শহরের এক নামজাদা কনভেন্টের ক্লাস এইটের ছাত্র। এখন বন্ধুরা এই নামে ডাকে বলে সে যদি তাদের সঙ্গ ত্যাগ করে, তবে পরের বন্ধুরাও এমনটা যে করবে না- এটা ও নিজেও হলফ করে বলতে পারবে না।

সৌন্দর্যের প্রচলিত সংজ্ঞা অনুসারে মোটা বাচ্চাদের সমস্যা অনেক রকমের। এই যেমন ফেসবুকে কোনও সুন্দর বা সুন্দরী বন্ধু পাওয়া যায় না, ডেটিং সে তো ভারি দুষ্কর ব্যাপার! এছাড়াও বন্ধুদের হাল্কা মজা এবং অপরিচিতদের বেশি মজার খোরাক হতে হয়। যেমন খুশি ঝিনচ্যাক জামাকাপড় পড়া তো যায়-ই না, এছাড়াও সাত্যকির মতো খাদ্যরসিকদের মন খুলে খেতে গেলেই ফেস করতে হয় 'এমা ছি ছি' ধরনের কিছু কিছু তাকানো! তার ফলে বাড়িতে বাবা-মাও যে মাঝে মাঝে কেমন খেপে ওঠেন, সে ব্যাপারে সেরা উদাহরণ বিখ্যাত লেখিকা সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ছোটগল্প 'জোড়ি'। শুধুমাত্র অতিরিক্ত মেদের জন্যই কেমন সমাজে এবং বাড়িতে হেয় হচ্ছিল একটা মেয়ে, 'জোড়ি' তার নির্মম উদাহরণ।

মোটা ছানা বা টেনেজাদদের সাতকাহনের মাঝে এটুকুই শুধু বলি, মন যেমন খেতে বা মজা করতে চাইছে- তা অবশ্যই করা উচিত। কিন্তু ওবেসিটির কারণে একটু বয়স বাড়লেই চলে আসে হাই ব্লাড প্রেশার, জয়েন্ট পেন, বাতের মতো বাজে বাজে যত সব রোগ! সেগুলোর থেকে একটু বেঁচে সচেতন হয়ে থেকে, তারপর যত খুশি কেএফসি, ম্যাকডোনাল্ডস যাওয়াই যায়; কেউ তো বারণ করছে না। হাল্কা একটু এক্সারসাইজেই যদি কাজ হয়, তবে কেন মিছিমিছি সামাজিক বিদ্রুপ সহ্য করা?

 

অন্যরা যা পড়ছেন

এই বিষয়ে আরও

জনপ্রিয়

সমস্ত ভিডিও

হক কথা বললেন অনুব্রত

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 228 জন

ইডি, কমিশনকে জ্ঞান দিলেন পার্থবাবু

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 154 জন

লাভপুর বিস্ফোরণে দায়ী ফব না তৃণমূল?

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 150 জন