চলতি হাওয়া

নিশিপ্রহরের নেশায় তিলোত্তমা

গুলশনারা
কলকাতা,২৪ ডিসেম্বর ২০১২

christmas celebration

পার্ক স্ট্রিট ছাড়িয়ে প্রসারিত হয়েছে সারা শহরেই। ছবি- নিজস্ব চিত্র।

পার্ক স্ট্রিট? নাকি সাউথ সিটি? না না, বাইপাস পেরিয়ে সল্টলেক বা রাজারহাট-ই ভাল। আসন্ন ক্রিসমাস এবং নিউ ইয়ার সেলিব্রেশনের প্রাক্কালে পাড়ার মুদির দোকান থেকে শুরু করে, সন্ধেবেলার জিম ক্লাস- সর্বত্র এই আলোচনার কানাকানি। কলকাতার এখন যৌবনে পা দেবে দেবে অবস্থা। তারই ইতিউতি চালচিত্তিরের মধ্যে এখন এই।

অবশ্য 'মেরি ক্রিসমাস' বা 'হ্যাপি নিউ ইয়ার' বলতে এখন শুধু পার্ক স্ট্রিটের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থাকতে হয় না। কানা গলিঘুঁজিতেও এখন ছোটখাট হ্যাং-আউট বানিয়ে ফেলেছে এ শহর। এক লহমায় বিদেশি রঙিন পানীয়ের ফোয়ারা ছুটিয়ে ছোট রেস্তোরাঁয় হঠাৎ পার্টি এ শহরে হামেশাই হচ্ছে। তা শীতকালীন কার্নিভ্যাল শুরুর আগে সে বাড়বাড়ন্ত মাথা ঘোরালেই চোখে পড়বে, তাও বলাই বাহুল্য। শীত কাবু করে লাল টুপি মাথায়, হাত ধরাধরি করে পার্ক স্ট্রিটের গুঁতো খাওয়ার দিন তো শেষ। সেই কবে বছর কিছু আগে দেখা ভিড়ের ক্রিসমাস পার্ক স্ট্রিট। বাগবাজার সর্বজনীনের চেয়ে কম লাইন থাকত না পিটার ক্যাটের সামনে। কেতাদুরস্ত ওয়েটার জাবেদা খাতা-প্রায় নোটবুক নিয়ে রোল কল করে লোক ঢোকাত। এখনও সেই ভিড় আছে, তবে তা পার্ক স্ট্রিট ছাড়িয়ে প্রসারিত হয়েছে সারা শহরেই।

আসলে ভিড় ঠেলে পার্টিতে মন নেয় নিত্য পার্টিময় জীবনের জেন-ওয়াই। সেই চাহিদার হাত ধরেই এ-পার থেকে ও-পার কলকাতায় মেলা বসেছে রেস্তোরাঁর। ক্রিসমাস নিয়ে তাদের ব্যস্ততার শেষ নেই। লাইন দিয়ে নাম লিখিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার কাস্টমার যে নেই। আগে থেকে নিশ্চিত বুকিংটুকু সেরে ফেলে, জোড়ে বা দলে নিশিঠেকের ক্রিসমাসের জন্য অপেক্ষা করা। শহরের নামী-অনামী পাব-রেস্তোরাঁ বা ক্লাবগুলির তাই এখন ব্যস্ততার শেষ নেই। প্রতিযোগিতার বাজারে গান-পান-এর শ্রেষ্ঠতম আপ্যায়নে ২৪ থেকে ১ রাত অবধি অতিথিকে ধরে রাখার প্রয়াস চোখে পড়ল পার্কস্ট্রিট থেকে বাইপাস সর্বত্র। এমনিতেই বছরের শেষদিন পড়েছে সপ্তাহের এক্কেবারে মাঝে। তাই এর মাঝের উইক-এন্ডগুলোতে চুটিয়ে 'মস্তি'-র কিছু প্রি-পরিকল্পনা রইল।

ক্রিসমাস বা নিউ ইয়ার ইভে পাব-ডিস্কে যাওয়ার প্রবণতা কলকাতার বেশ বছর খানেক আগে থাকতেই হয়েছে। সেদিক থেকে ট্রিংকাজের রদ্দি পুরাতনীকে কনুই মেরে ঝিংকু হিসেবে সামপ্লেস এলস বরাবরই জেন ওয়াই-এর কাছে প্রিয় হয়েছে। ২৪ থেকে ৩১ অবধি সামপ্লেস রাত ১০টা বাজলেই রোজ-ই লাইভ ব্যান্ড তুলে আনছে। ক্লাব ইংলিশে কলকাতাকে মাত করানো ক্রসউইন্ডজও কিন্তু সেথায় আপনার ভাগ্যে জুটে যেতে পারে। তবে সব কিছুকে সরিয়ে সামপ্লেস হিট করে ফেলে পিচার বিয়ার। ৩৫০ টাকার একটা পিচার নিয়ে এককোণে বসে যান আগেভাগে। মৌচাক থেকে মধু লুটে নেওয়ার প্রয়াসে আলো পিছলানো সামপ্লেসে গ্লাস গ্লাস মিষ্টি বিয়ার আর লাইভ মিউজিক (চাইলে পা-কোমর দোলাতেই পারেন)- দেখুন তো স্বর্গ স্বর্গ লাগে কিনা?

আবার সামপ্লেস বা তন্ত্রর চেনা ভিড় থেকে মুক্তি পেতে চলে যেতে পারেন ক্যামাক স্ট্রিটের অ্যাস্টর হোটেলে। ২৪-৩১ অবধি এখানে সব পানাহারেই আপনি আপনার ভাগ্য অনুযায়ী নানান ছাড়পত্র পাবেন। লাক ট্রাই করে অ্যাস্টরের লাউঞ্জ পার্টিতে যেতে হলে বুকিং মাস্ট। কাপল ডিনার কাম ড্রিংকস উইথ ডিজে-তে খরচ পড়বে ২০০০। খানিক ফরাসি মাপের সান্তা দিবসে পার্কস্ট্রিটের বিস্ট্রোই বা মন্দ কই? এখানে বুকিং ঝামেলা নেই। ইতিউতি ছড়ানো টেবিল-চেয়ার মিলিয়ে একটা অগোছালো বোহেমিয়ানিজম অন্য মাদকতা দেবে। পকেটে ১০০০ মতো থাকলেই গান-পান সেরে খানিক ফরাসি-ফরাসি বছর শেষ কাটালেন।

পাশাপাশি মায়া ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পৃথিবী ধ্বংস হচ্ছে না বলে, আনন্দে নেচে উঠে বালিগঞ্জ ফাঁড়ির মুক্তি ওয়র্ল্ড তাদের বিশাল ব্লুজ লাউঞ্জ বার দারুন সাজিয়ে ফেলেছে। বার-কাউন্টার দখল করে ব্রায়ান অ্যাডামস বা রিকি মার্টিন বা লেনার্ড কোহেন শোনার প্ল্যান নিয়ে চলে আসুন। বার আগলে চেয়ারে বসার মারামারি নেই এই সুবিশাল লাউঞ্জ বারে। আগেভাগে টুক করে যদি হ্যাপি আওয়ার্সে চলে আসতে পারেন, তবে তো ক্রিসমাস কাটিয়ে পকেটে হাসি মেখে বাড়ি ঢুকবেন। শোনা যাচ্ছে, নিজেদের মায়াবি পুলসাইডে আরও কিছু সারপ্রাইজ দুষ্টুমির প্যাকেজ রেখেছে রাজারহাটের সুইসোটেল। তবে সে চমক জানতে সশরীরে হাজিরা দিতে হবে ওখানেই। এবার পার্টি প্ল্যানের চয়েস নিয়ে ঘেঁটে গেলে বলি, হাতে হাত ধরে বেরিয়েই পড়া যাক বরং। আলোয় ঝলকানো শহরে হুল্লোড় বা নিরিবিলি নিজের মতো বছর শেষ করার অঢেল সুযোগ সদ্যযৌবনা কলকাতা দেবে বইকি!

অন্যরা যা পড়ছেন

এই বিষয়ে আরও

জনপ্রিয়

সমস্ত ভিডিও

মোদীর মনোনয়ন

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 40 জন

ফুটন্ত কড়াই কলকাতা, মৃত দুই

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 64 জন

ঋষি-কাঞ্চির ঠুমকা প্রেম

মুক্তা আর্টস

দেখেছেন 88 জন

"যাকেই বসাবে সে'ই হবে আমাদের লোক"

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 261 জন