চলতি হাওয়া

কাছেপিঠে চড়ুইভাতি

উজ্জয়িনী মুখোপাধ্যায়
কলকাতা,৯ জানুয়ারি ২০১৩

picnic spots around kolkata

শহরতলির আশপাশেই কাটিয়ে আসা যাক একটি দিন। ছবি- নিজস্ব চিত্র।

ছাপার অক্ষরে 'শীতকাল কবে আসবে সুপর্ণা' বলে নাগরিক কবির আক্ষেপ অনন্ত হয়ে থাকলেও কলকাতার পরতে পরতে পড়ছে শীত, বেশি থেকে আরও বেশি, তার থেকেও বেশি! শীত নামের এই ‘ডিভা’-র নিত্যদিনের রঙ্গতে যে যতই নাজেহাল হোক না কেন, হুজুগে কলকাতাবাসীর হয়েছে দিব্যি পোয়া বারো। কাজের ফাঁকে একটু সময় বের করে নিয়ে ওঁরা তাই মাঝেসাঝেই চলে যাচ্ছেন পিকনিকে। গরম-গরম খাবারদাবার, কিছু ফল, কয়েক জোড়া ব্যাডমিন্টন র‌‌‌‌‌‌‌্যাকেট, বনফায়ারের কিছু জিনিস আর অনেকটা হুল্লোড়ে মন - আবার কি চাই পিকনিকের জন্য? 'শহর থেকে অনেক দূরে'-ও নয়, শহরতলির আশপাশেই চলুন না কাটিয়ে আসা যাক একটি দিন। ভাবছেন, কোথায় যাবেন? তাহলে চটপট চোখ বুলিয়ে নিন এই ফর্দতে।

১. পিয়ালি : চলে যেতে পারেন পিয়ালি-তে! পিয়ালি নদীর পাড় ধরে আসে সুদৃশ্য মনোরম পরিবেশ চড়ুইভাতির আসর বিছিয়ে রেখেছে। কিছুদূর গিয়ে মাতলা নদীতে মিশে যাওয়া এই পিয়ালি আপনার এই শীতের পিকনিকের আইডিয়াল স্পট হতেই পারে। গাড়িতে বা ট্রেনে ক্যানিং পৌঁছে কিছুটা গেলেই দেখা পাবেন পিয়ালি-র।

২. ফুলেশ্বর : হুগলি নদীর গা-ঘেঁষে সবুজ ঘাসের মোটা চাদর, পিছন দিকে মুখ ফেরালেই গাছগাছালির ভিড়, সামনে দিগন্ত বিস্তৃত নদীজুড়ে ছোটখাটো ঢেউয়ের অবাধ আনাগোনা- মোটের ওপর এই হল ফুলেশ্বর। হাওড়া থেকে খড়গপুরের ট্রেনে উঠে উলুবেড়িয়ায় নেমে ১৫ মিনিটের বাস যাত্রা করলেই পৌঁছাতে পারবেন এখানে। এছাড়া গাড়িতে দলবল নিয়ে সওয়ার হতে চাইলে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে চলতে চলতে উলুবেড়িয়া থেকে বাঁ-দিকে ঘুরলেই পেয়ে যাবেন গন্তব্যটি। শীতের দিনে শুধু নদীবক্ষে বসে প্রিয় মানুষদের সঙ্গে উষ্ণ কথোপকথন আর সঙ্গে খাওয়াদাওয়ার জন্য ফুলেশ্বর একেবারে পিকচার পারফেক্ট! নদীতে কিছুক্ষণ বোটিং করেও শরীর-মনের জড়তা দূর করার সুবিধেটাও আপনাকে দেবে ফুলেশ্বর।

৩. ডায়মন্ড হারবার : ঠান্ডা কলকাতার নিত্যদিনের কাজে কর্মে আপনি কি ক্লান্ত? ক্লান্তি দূর করতে শুধুই পছন্দের মানুষটিকে নিয়ে নয়, বরং একদঙ্গল পছন্দের মানুষদের নিয়ে সোজা চলে যান ডায়মন্ড হারবার। কাছেপিঠে একটু পিকনিক, সঙ্গে বোনাস পর্তুগিজ দুর্গ- প্যাকেজটা মোটেও খারাপ নয়। ছিমছাম পিকনিক সেরে গঙ্গাবক্ষে করে নিতে পারেন একটু-আধটু বোটিং; আর হ্যাঁ, ক্ষয়প্রাপ্ত পর্তুগিজ দুর্গগুলো দেখতে ভুলবেন না যেন! ভাবছেন কীভাবে যাবেন? শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ডায়মন্ড হারবার লোকাল ধরে যেমন যেতে পারেন, তেমনই বাসে বা গাড়িতে ডায়মন্ড হারবার রোড ধরে হাজির হতে পারেন অকুস্থলে- যা আপনার সুবিধে।

৪. নূরপুর : শহর কলকাতা থেকে মাত্র ৫২ কিমি দূরত্বেই আছে নদী, প্রকৃতি ও ইতিহাসের অনবদ্য মিশ্রণ নূরপুর। ট্রেনে শিয়ালদহ থেকে ডায়মন্ড হারবার পৌঁছে বাসে করে যেতে পারেন, তাছাড়া গাড়িতে রায়চক থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে চলে আসতে পারেন এখানে। দুটো উপায়ের কোনওটাই মনে না ধরলে ধর্মতলা বাস স্ট্যান্ড থেকে নূরপুর-এর বাসেও উঠে পড়া যায়। এখানে পিকনিকের ফাঁকে ঘুরে আসতে পারেন স্কন্ধকাটা সাহেব-মেমের কবরখানায়, বা পাশের মাছ পট্টি থেকে টাটকা মাছ কিনে জমিয়ে তুলতে পারেন চড়ুইভাতি। নিজেরা হ্যাপা পোহাতে না চাইলে সামনের চায়ের দোকানে ভাজিয়েও চেখে দেখতে পারেন। তার পর ২০ মিনিটের জন্য বাস বা গাড়িতে পথ পেরোলে বিখ্যাত মহিষাদল রাজবাড়ির অবশেষটুকু দেখে নিতে পারেন। মন চাইলে ফেরি পার হয়ে উল্টো দিকের গাদিয়াড়াতেও ঢুঁ মারা যেতেই পারে।

৫. গাঁধীঘাট : ট্রেনে বা গাড়িতে ব্যারাকপুর পৌঁছে সোজা চলে যেতে পারেন গাঁধীঘাট। হুগলি নদীর ধারের এই জায়গাটি পিকনিক-পিয়াসীদের বেশ প্রিয়। মৃদুমন্দ হাওয়ায় ভোজন সেরে জওহর কুঞ্জ ও গাঁধী মিউজিয়াম ঘুরে দেখতে পারেন। সবুজে ভরা ঘাসের মাঝে পার্কটিতে চাইলে প্রকৃতির সঙ্গে দুটো মনের কথাও বলতে পারেন; কেউ উত্যক্ত করবে না।

৬. লিচুবাগান : ব্যান্ডেল লোকাল ধরে কিম্বা গাড়িতে ব্যান্ডেল পৌঁছে সেখান থেকে কিছুটা এগোলেই হদিশ পাবেন লিচুবাগান-এর! জনমানবের কোলাহলশূন্য এই মনোরম জায়গাটিতে শীতকালের দুপুর জুড়ে করতে পারেন চড়ুইভাতি। হাতে কিছুটা বাড়তি সময় থাকলে ঘুরে আসতে পারেন রাজা চন্দ্রমণির ইতিহাসমুখর অস্তিত্বের জায়গাটিও। তা বাদে পিকনিকের অন্যান্য মজা তো আছেই।

৭. মাছরাঙা দ্বীপ : উত্তর ২৪ পরগণার বসিরহাটের অন্তর্গত টাকি থেকে মাছরাঙা দ্বীপ রয়েছে একেবারেই পায়ে হাঁটা দূরত্বে। ইছামতী নদীর ধারে অবসাদ কাটিয়ে হই-হুল্লোড়ে পিকনিক করতে পারেন এখানে। এছাড়াও চেনা-জানা সবুজ দ্বীপ, রাজপুর, ফলতা তো আছেই; এবার শুধু পিকনিকের জোগাড়যন্তরটা সেরে ফেললেই হল!
 

অন্যরা যা পড়ছেন

এই বিষয়ে আরও

জনপ্রিয়

সমস্ত ভিডিও

বর্ধমানে তরুণীর উপর অ্যাসিড হামলা

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 1 জন

কালো টাকা নিয়ে জেটলি যা বললেন

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 0 জন

দেব-শ্রাবন্তীর বিন্দাস প্রেম

শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস্

দেখেছেন 0 জন

তাপস পাল লোফার নন, ল' মেকার

এবিপি আনন্দ।

দেখেছেন 0 জন