নাট্য সমালোচনা

নতুন আঙ্গিকের 'কত্তামশাই'

সুরজিৎ সরকার
কলকাতা,৬ অক্টোবর, ২০১২

natok

শারীরিক ভঙ্গিমাই অভিনয়ের মাধ্যম হয়ে উঠত। ছবি- পারফর্মার ইন্ডিপেন্ডেন্টস।

প্রসেনিয়াম থিয়েটারের গণ্ডি ভেঙে নাটক-অভিনয়কে একদম জনতার মাঝে নিয়ে এসেছিলেন নাট্যকার বাদল সরকার। আলো-সঙ্গীত-অভিনয় সবেতে দর্শকদের মাঝে দর্শকদের হয়ে ছিল বাদল সরকারের প্রয়াস। সেখানে কখনও বা চরিত্রই প্রপস, কখনও বা মুখাভিনয় নয়- শারীরিক ভঙ্গিমাই অভিনয়ের মাধ্যম হয়ে উঠত। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে এই ফর্ম নিয়ে (থার্ড থিয়েটার) নিয়ে বেশ কিছু কাজ হলেও, এ বাংলায় বাদল সরকার অবহেলা পেয়েছেন। শিল্পচর্চা করতে করতে নানা আঙ্গিকের খোঁজে সেই ফর্ম নিয়েই কাঁটাছেঁড়া করছে নানা দল। কলকাতার পারফর্মার ইন্ডিপেন্ডেন্টস আঙ্গিকের সেই পরীক্ষা নিয়েই কাজ করতে করতে নিবেদন করল তাদের প্রযোজনা। বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়ের 'কত্তামশাই' রবিবারের সন্ধ্যার এক অনন্য পরিবেশন ছিল পারফর্মার ইন্ডিপেন্ডেন্টস-এর পক্ষ থেকে। রবিবার তৃপ্তি মিত্র নাট্যগৃহে পারফরমার ইন্ডিপেন্ডেন্টস, বিসিপি এবং এসএইচএডব্লিউএইচ-এর প্রযোজনায় মূলত প্রসেনিয়ামের গণ্ডিতে নাটককে দেখতে অভ্যস্ত কলকাতাবাসী এক অন্য পারফর্মিং আর্টের অভিজ্ঞতার সাক্ষী হল।

এই প্রযোজনা কোনও ছকে বাঁধা নাটক নয়। বরং বলা ভাল বেশ কয়েকটি পারফর্মিং আর্টকে নিয়ে একটি সমবেত প্রযোজনা। দর্শকাসনের মধ্যেই অভিনেতারা ঘুরে অভিনয় করেছেন। মাঝে মাঝে হ্যান্ড শ্যাডো, গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের চিত্রপ্রদর্শনী, স্লাইড শো বা আলোর ব্যবহার অন্য রূপ দিয়েছে প্রযোজনাটিকে। কত্তামশাই সুররিয়ালের মধ্যে জীবন্ত-বাস্তব একটি লেখা। দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর শিল্প-সৃষ্টির মধ্যে নিজেকে আবার করে খুঁজে পাওয়া এবং চরম জীবনদর্শনের কথন এই লেখা। তাতে ঘুরে-ফিরে নিয়তি-মানুষ-অতিমানুষ ও তাকে নিয়ে পাকে পাকে আত্মোপলব্ধি ও দর্শনতত্ত্ব তুলে ধরে 'কত্তামশাই'-এ জ্যান্ত সুররিয়াল হিসেবে পাঠকদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন লেখক বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়।

দেখুন গ্যালারি

একে সরাসরি মঞ্চে নিয়ে আসার সাহসের জন্য পারফর্মার ইন্ডিপেন্ডেন্টস ভীষণভাবে প্রশংসার দাবি রাখে। মূলত অভিনয়, ভাষ্যপাঠ, আলো, স্লাইড শো এবং স্ক্রিনিং-এর সমবেত প্রয়াস 'কত্তামশাই'। সৈয়দ তওফিক রিয়াজ এবং ধ্রুপদী ঘোষের ভাষ্যে সভাঘর গমগম করছিল। পান্টুর সঙ্গীত এই অনুষ্ঠানের অনন্য এক পাওনা। বাঁশি, বেহালার সুরে কত্তামশাই-এর যন্ত্রণা এবং আনন্দের সুরলহরী তৈরি হয়েছিল সভাঘরে। অবশ্য আলোর দিক থেকে আরও বেশি যত্ন নেওয়া উচিত ছিল। মাঝে মাঝেই আলো চলে যাওয়া দর্শকদের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করেছে। তবে দেওয়ালে লাল-নীল বাহারি আলোর প্রতিচ্ছবি যে আধা-ভুতূড়ে সমাবেশ এনেছিল তা লক্ষ্যণীয়। অমিতাভ অধিকারীর হ্যাণ্ড-শ্যাডো এবং কাজ যথাযথ। অভিনেতাদের মধ্যে সময়ের যে ব্যবধান ছিল তা চোখে পড়েছে। সমালোচনার নিক্তিতে এ অনুষ্ঠানের অনেক খুঁত বেরিয়ে এলেও, এই প্রয়াসকে সাধুবাদের
প্রয়োজন আছে বইকি। আগামী ১৬ই অক্টোবর তৃপ্তি মিত্র নাট্যগৃহে 'কত্তামশাই' পরবর্তী শোয়ে আশা করা যায় এই সমস্যাগুলি তাঁরা কাটিয়ে উঠবেন।

 
নাটক : কত্তামশাই
পরিচালনা : পারফর্মার ইন্ডিপেন্ডেন্টস।
 

জনপ্রিয়

সমস্ত ভিডিও

বর্ধমানে তরুণীর উপর অ্যাসিড হামলা

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 1 জন

কালো টাকা নিয়ে জেটলি যা বললেন

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 0 জন

দেব-শ্রাবন্তীর বিন্দাস প্রেম

শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস্

দেখেছেন 0 জন

তাপস পাল লোফার নন, ল' মেকার

এবিপি আনন্দ।

দেখেছেন 0 জন