নাট্য সমালোচনা

লক্ষ্মীর পরীক্ষা

অরিজিতা মুখোপাধ্যায়।
কলকাতা,১৬ ডিসেম্বর ২০১২

lakhsmir porikha

জীয়নকাঠির ভূমিকায় ‘নয়ে নাটুয়া’ কে অভিবাদন। ছবি- নয়ে নাটুয়া।

“রবীন্দ্রনাথের নাটকে যে কত নাট্যমুহূর্ত লুকিয়ে আছে, অনেকসময় আমাদের চোখ থাকে না বলে দেখতে পাইনা আমরা” কথাগুলো বলছিলেন গৌতম হালদার। নয়ে নাটুয়ার জন্মদিনে অকাদেমিতে ডবল শো-এর শেষে নতুন প্রযোজনা ‘লক্ষ্মীর পরীক্ষা’ সম্বন্ধে কথাগুলো ধ্রুব সত্যের মতো শোনাচ্ছিল।  সার্ধ শতবর্ষের তাড়নায় এই নাটক কারও চোখে পড়ল না, সেও কি হয়? হয়েছে, গালভরা ঐতিহ্য আর পাট করা তসরের ভাঁজে রবীন্দ্রনাথ নিজেই একরকম কানা ঘেঁষে ছিলেন, তারও পর কিনা লক্ষ্মীর পরীক্ষা? চ্যালেঞ্জ আছে? এর আগে করেছে কোন বড় দল? ক্ষীরোর ভূমিকায় আছে কারও কিংবদন্তী অভিনয়? না, প্রশ্নগুলো ছিল না আগে, আর তার তোয়াক্কা না করেই ময়দানে নেমে নতুন সংজ্ঞা গড়লেন গৌতম হালদার।  

গল্পটা খানিক ‘ইচ্ছাপূরণ’ এর মতই। রানি কল্যাণী বিপুল ধনসম্পত্তির অধিকারিণী তবু দাক্ষিণ্যের ব্রতে কিছুমাত্র কুন্ঠিত নন। কিন্তু সংসারের নিয়ম যে বড়ই নির্মম। তাই দানধ্যানের পরেও আলতামিরার হাঁ-বন্ধ হয় না। একমুখে খান, অন্যমুখে নিন্দা জোগান। আর আছেন দাসী ক্ষীরো, সর্বঘটের বিল্বপত্র হয়ে রানীর ডানহাত এবং পিছু ফিরলেই তামাম দুনিয়ার তালে তাল! এমন সময়ে এক রাতে লক্ষ্মী আসেন ক্ষীরোর স্বপ্নে। সম্পত্তির লোভ সামলাতে না পেরে লক্ষ্মীর কাছে দাসী আবেদন জানায় রানি করে দিতে। দেবীর কৃপায় কল্যাণী হলেন সর্বস্বান্ত, আর রানি হল ক্ষীরো। শুরু হল লক্ষ্মীর পরীক্ষা এবং রানি ক্ষীরোর স্বপ্নভঙ্গ! গল্প এবং নাটকিয়ানা এযাবৎ অসাধারণ কিছু নয়। কিন্তু ক্ষীরো রানির আমল জুড়ে পরতে পরতে আছে কড়াপাক বিদ্রূপের লহর। আর আছে অসাধারণ নাট্যমুহূর্ত। কোরাসকে কাজে লাগিয়ে এই নাটকের হাসির রসদ টেনে বের করে আনতে গৌতমের নির্দেশনার জুড়ি মেলা ভার। দাসী ক্ষীরোর আমলে হঠাৎ কোরাস দলের মাথায় বিলিতি বনেট বাঁধা দেখে রোল উঠল হাসির। কিন্তু পাশে বসা দর্শকসঙ্গী বিড়বিড় করে বলে উঠলেন, “কলকাতাকে রাতারাতি লন্ডন বানিয়ে ফেলার মতোই, তাই না?” আসলে স্যাটায়ারের মোক্ষমে সম ফেলেছেন নির্দেশক, তাই অন্তঃসারশূন্যতা কে রাজনৈতিক সমকালীনে ধরে ফেলতে অসুবিধে হল না।

‘লক্ষ্মীর পরীক্ষা’ মূল নাটকের কিছুমাত্র অদলবদল হয়নি এই প্রযোজনায়। সবগুলি নারীচরিত্র নির্মাণ করলেন পুরুষ-নারী নির্বিশেষে। কৌতূকের মূল আকর্ষণ ছিলেন স্বয়ং গৌতম হালদার ক্ষীরোর ভূমিকায়। এই প্রথম নারীচরিত্রে গৌতম শুধু সফল নন, অসামান্য। পাশাপাশি রানি কল্যাণীর ভূমিকায় দ্যুতি হালদার ছিলেন যথাযথ। শান্তনু ঘোষ ‘ওসামা’ এবং ‘জাল’ এর পর আরও একবার নজর কাড়লেন। আলোর কাজে জয় সেন সাহায্য করলেন আবহাওয়া তৈরিতে। আর আবহে ব্যবহৃত বাজার কাটতি গানের সুর আরও তীক্ষ্ণ করল ব্যঙ্গের আসর।

বর্তমানে বাংলায় হাসির নাটকের তালিকায় ‘ফুড়ুৎ’, ‘জ্ঞানবৃক্ষের ফল’, ‘হ্যাপি-ডি’ ছাড়া খুব একটা নাম মনে পড়ে না। আশা রাখি, নয়ে নাটুয়ার লক্ষ্মীর পরীক্ষা এই তালিকায় নবতম সংযোজন ঘটাবে। ‘লক্ষ্মীর পরীক্ষা’ সফল শুধু অভিনয়ে নয়, মঞ্চায়নেও। অনেকদিন পর বাংলা থিয়েটারে ঘুমিয়ে থাকা রাজকন্যার ঘুম ভাঙল যেন। জীয়নকাঠির ভূমিকায় ‘নয়ে নাটুয়া’ কে অভিবাদন।

নাটকঃ লক্ষ্মীর পরীক্ষা
প্রযোজনাঃ নয়ে নাটুয়া
নির্দেশনাঃ গৌতম হালদার
আলোঃ জয় সেন
অভিনয়েঃ গৌতম হালদার, দ্যুতি হালদার, শান্তনু ঘোষ, সৌম্যদেব ভট্টাচার্য ও অন্যান্য।
 

জনপ্রিয়

সমস্ত ভিডিও

বর্ধমানে তরুণীর উপর অ্যাসিড হামলা

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 1 জন

কালো টাকা নিয়ে জেটলি যা বললেন

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 0 জন

দেব-শ্রাবন্তীর বিন্দাস প্রেম

শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস্

দেখেছেন 0 জন

তাপস পাল লোফার নন, ল' মেকার

এবিপি আনন্দ।

দেখেছেন 0 জন