নাট্য সমালোচনা

ভুল স্বর্গ

সৌভিক চক্রবর্তী
কলকাতা,৬ জানুয়ারি ২০১৩

theater drama

শিল্পীসংঘের নতুন নাটক ভুল স্বর্গ। ছবি- হাওড়া শিল্পীসংঘ।

সম্প্রতি গিরিশ মঞ্চে অভিনীত হল হাওড়া শিল্পীসংঘের নতুন নাটক 'ভুল স্বর্গ'। শিল্পী সংঘের 'কোকিল স্যার' বা 'পৃথিবীর অসুখবিসুখ' এই দুটি নাটকের মতো 'ভুল স্বর্গ'-ও একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের নাটক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'লিপিকা'-র 'ভুল স্বর্গ' গল্পটির অনুসরণে নাটক লিখেছেন রুদ্রপ্রসাদ চক্রবর্তী। নির্দেশনায় সীমা মুখোপাধ্যায়।
              
ভুল স্বর্গ গল্পটির মূল নির্যাস রক্ষা করেই রুদ্রপ্রসাদ চক্রবর্তী বিভিন্ন পরিবর্তন এনেছেন নাটকটিতে। যদিও তা নাটকের প্রয়োজনেই। কারণ ভুল স্বর্গ গল্পটি থেকে একটি স্বতন্ত্র নাটক রচনা বেশ কঠিন কাজ ছিল। এই নাটক একটি ছেলের গল্প। বাস্তববাদী লোক তাকে বলে অকম্মা। কারণ সে সারাদিন ছবি আঁকে। গাছ-পাখি-পাহাড় স্বতস্ফূর্ত কল্পনায় উঠে আসে তার তুলিতে। আর পড়শিদের গঞ্জনায় তার ঝুলি ভরে ওঠে। একদিন ভুল করে তাকেই নিয়ে আসা হল কেজো স্বর্গে। এখানে সবাই শুধু কাজ করে। কোথাও একটু বসে জিরোবার ফুরসৎ নেই। সবাই কেবল ছুটছে আর বলছে, কত কাজ বাকি! বড় সমস্যায় পড়ে ছেলেটি। যেখানেই দাঁড়াতে যায়, কেউ এসে তাকে সরিয়ে দেয়। যেখানেই বসতে যায়, দেখে সেখানে বীজ পোঁতা হয়েছে। অদ্ভুত এক কর্মহীনতায় ভোগে ছেলেটি, কারণ তার কাজ আর বাকিদের কাজে যে আকাশ-পাতাল তফাত। অবশেষে এক ঝরনার ধারে গিয়ে বসে থাকে সে। সেখানে জল আনতে আসে একটি মেয়ে, সে মেয়েটির কলসিতে চিত্র করে দেয়, বিনুনি বাঁধার রঙিন দড়ি বানিয়ে দেয়। ক্রমশ মেয়েটি বুঝতে পারে যে, নিয়মের বেড়া জালে সবাইকে বাঁধা যায় না। তখন নিয়মের এই অদৃশ্য শেকল তার পা থেকেও একটু একটু করে খুলে যায়। ফলে কাজ আর আগের মতো হয় না। কাজে ফাঁকি পড়ে। সভা বসে ভুল স্বর্গে। কেজো স্বর্গের অনুশাসন ভঙ্গ করা তো চরম অপরাধ। চিন্তিত হয়ে পড়েন প্রবীণ প্রশাসকেরা। শাস্তি পেতে হবে ছেলেটিকে। শাস্তি পায় সে। কিন্তু কী সেই শাস্তি? সেটুকু না হয় কৌতূহলেই বাঁচুক।
              
নির্দেশক সীমা মুখোপাধ্যায় আগাগোড়া হাসির মোড়কে বাঁধতে চেয়েছেন রবি ঠাকুরের শাশ্বত বার্তাকে। যে কাজে তিনি সফল। প্রায় এক ঘন্টার এই নাটকে কোথাও ঝিমুনি নেই। দ্রুত গতিতে নাটক পৌঁছেছে সমাপতনে। তাতে দর্শকেরও রিলিফ। নাটকের প্রয়োজনে রুদ্রপ্রসাদ চক্রবর্তী কয়েকটি নতুন চরিত্র যেমন স্বর্গের দূত, খবর সরবরাহকারী, ছিদ্রান্বেষী, পরচর্চী ইত্যাদি সৃষ্টি করেছেন। প্রত্যেকটি চরিত্রই অনিবার্য হয়ে উঠেছে এই নাটকে। তবে অভিনয়ের ক্ষেত্রে আরেকটু যত্নবান হওয়ার প্রয়োজন ছিল। বেকার ছেলের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শুভেন্দু ঘোষ। তাঁর অভিনয় বেশ সাবলীল। কিন্তু ছেলেটির সারল্য উপেক্ষিত থেকে গেছে। মেয়েটির চরিত্রে দময়ন্তী মুখোপাধ্যায়ের অভিনয় যান্ত্রিক। তিনি সুন্দরী, তন্বী। তাঁর যে বিভঙ্গ, বিলোল কটাক্ষ ঝড় তুলতে পারত হৃদয়ে, তা আড়ষ্টতার কারণে স্বতস্ফূর্ত নয়। তাঁর চলতে চলতে পিছন ফিরে তাকানো, হঠাৎ হাসি, কলসি লুকানোর চেষ্টা- সব কিছু বড় সাজানো মনে হয়েছে। প্রধানের চরিত্রে শঙ্কর ঘোষ যথাযথ অভিনয় করলেন। অন্যান্যদের অভিনয়ও সাবলীল।
              
মঞ্চভাবনায় ত্রিগুনাশঙ্কর মান্না অভিনবত্বের পরিচয় দিয়েছেন। আলোয় বাদল দাস এবং আবহে তড়িৎ ভট্টাচার্য এ নাটককে প্রয়োজনীয় গতিদান করেছেন। স্বল্প দৈর্ঘ্যের নাটক হলেও 'ভুল স্বর্গ' হাওড়া শিল্পীসংঘের একটি সফল প্রযোজনা।

নাটক: ভুলস্বর্গ
প্রযোজনা: হাওড়া শিল্পীসংঘ
নাটক: রুদ্রপ্রসাদ চক্রবর্তী
নির্দেশনা: সীমা মুখোপাধ্যায়
 

জনপ্রিয়

সমস্ত ভিডিও

বর্ধমানে তরুণীর উপর অ্যাসিড হামলা

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 1 জন

কালো টাকা নিয়ে জেটলি যা বললেন

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 0 জন

দেব-শ্রাবন্তীর বিন্দাস প্রেম

শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস্

দেখেছেন 0 জন

তাপস পাল লোফার নন, ল' মেকার

এবিপি আনন্দ।

দেখেছেন 0 জন