নাট্য সমালোচনা

লক্ষ্মণের শক্তিশেল

সুরজিৎ সরকার
কলকাতা, ৮ জানুয়ারি, ২০১৩

lakshmaner shaktishel

আধুনিক যুগে রামায়ণের চরিত্রদের চেহারা কেমন হতে পারত? ছবি- সুরজিৎ সরকার।

‘খেয়ে লিন আঙ্কল, ও সরবতে বিষ লাই...’।

এই অতি-পরিচিত সংলাপের সঙ্গে এতদিন এক হয়ে ছিল ফেলুদা, তোপ্‌সে, জটায়ু, মগনলালের নাম। এখন যদি হঠাৎ এটি রাম, লক্ষ্মণ, সুগ্রীব, হনুমান আর রাবণের সঙ্গে জুড়ে যায়, অবাক না হয়ে উপায় কী!

পাথুরিয়াঘাটার প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো ঘোষবাড়িতেই এই সরবত খাওয়ার আমন্ত্রণ। পাশাপাশি আমন্ত্রণ সুকুমার রায়-এর ‘লক্ষ্মণের শক্তিশেল’ নাটক দেখার। ‘আসিছে রাবণ’– এই সাবধানবাণী বহুবার কানে আসায় রাবণের জন্য প্রস্তুত হয়েই যেতে হয় দেখতে থিয়েটার ফর্মেশন পরিবর্তক-এর ‘লক্ষণের শক্তিশেল’।

অভিনয় স্থান ছাড়াও এই নাটকটি আরও এক অদ্ভুত কারণে আলাদা হয়ে থাকবে। এর টিকিটের কোনও নির্দিষ্ট দাম নেই– যিনি ভালবেসে যা-ই দেবেন, তা-ই নেওয়া হবে সানন্দে। আপনি প্রবেশ করে নির্দিষ্ট স্থান গ্রহণ করার পরেই আধুনিক যুগের যন্ত্রানুসঙ্গ সহ গান শুরু হয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই আপনার হাতে চলে আসবে সরবতের ভাঁড় এবং সঙ্গে গানের কলিতে – ‘এ সরবতে বিষ নাই’।

তো, আধুনিক যুগে রামায়ণের চরিত্রদের চেহারা কেমন হতে পারত? রাম ঠিক কেমন মানুষ? মশারির মধ্যে সদা নিদ্রারত এক প্রবল পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রধান-পুরুষই কি রাম? আর লক্ষণ কি কেবল আমাদের কথার জোরে ফুলে-ফেঁপে ওঠা এক দুর্বল চরিত্র, যার আস্ফালনেই আকাশ বাতাস ফেটে পড়ে? সুগ্রীব, বিভীষণরা প্রত্যেকে আধুনিক সামরিক প্রধানদের চরিত্র?

রাবণ যখন সত্যিই এলেন, তখন তার পোষাকের মধ্যে দিয়ে ফুটে বেরোচ্ছে আধুনিক ভোগবাদের ছবি– আমাদের অতি পরিচিত ডব্লু-ডব্লু-ই-র এক পালোয়ান যেন, যে অনায়াসে হারিয়ে দেয় পালোয়ান সুগ্রীবকে– ঠিক যেমনভাবে আধুনিক জীবনে ভোগবাদের কাছে হার মানছে পুরনো চিন্তাভাবনা। যমরাজ এখানে স্ত্রী-রূপে অবতীর্ণ হন, যেন ভোগবাদেরই উদাহরণ। কিন্তু সহজেই পরাস্ত হন ব্রক্ষচারী হনুমানের আনা গন্ধমাদনের ধাক্কায়।

নাটকটি আপনাকে আটকে রাখবে আসনের সঙ্গে। প্রথমেই তৈরি হবে এক অদ্ভুত আবহ। কিন্তু কোথাও যেন থেকে যাবে কিছু না পাওয়ার রেশও। এই নাটকের সংগঠকদের বক্তব্য, আমরা দর্শকদের ভাবাতে চাই। সেই জন্যই বোধহয় নাটক জুড়ে প্রচুর প্রতীকী। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এই অল্প সময়ের মধ্যে এত বেশি তথ্য– সবটাই মনে নেওয়ার মতো সময় কি পাচ্ছেন দর্শক? অভিনয়েও কিছু ক্ষেত্রে আরও ভাল করার সুযোগ রয়ে যায়। দর্শকদের ভাবানো ছাড়াও এই নাটকের কুশীলবদেরও সুযোগ রয়ে গেছে এখনও অনেক ভাবনা-চিন্তা করার। কিন্তু প্রথাগত প্রসেনিয়াম আর্ট ফর্ম ভেঙে বেড়িয়ে এসে দর্শকদের চারদিক দিয়ে ঘিরে ধরে নাটকের মধ্যে নিয়ে যাওয়ার এই যে প্রচেষ্টা, তা সত্যিই অভিনন্দনযোগ্য।

অন্যরা যা পড়ছেন

এই বিষয়ে আরও

জনপ্রিয়

সমস্ত ভিডিও

বৈশাখী ভোজন

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 124 জন

মিষ্টিতে ভোটযুদ্ধ

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 93 জন

"ধর্মনিরপেক্ষতার ভান করছেন মমতা"

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 148 জন

সম্রাট না শার্লক?

রাজশ্রী

দেখেছেন 135 জন

তৃণমূলের অটো প্রচার

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 100 জন