পত্রিকা

নিবন্ধ

মর্গ্যান এখনও টপকাতে পারেননি পিকে-কে

সময়ের ফারাক সাড়ে তিন দশক। বাড়ির দূরত্ব মাইল দুয়েক। তবুও আড্ডায় তুফান উঠছে দু’জনকে নিয়ে। পরিসংখ্যানে এগিয়ে পিকে। মর্গ্যানের অশ্বমেধের ঘোড়া হঠাৎই দু’টো ম্যাচে মুখ থুবড়ে পড়ায় তর্ক আরও তীব্র। তাঁদের মার্কশিট বানালেন পিকে-মর্গ্যানকে খুব কাছ থেকে দেখা দুই কোচ ও এক ফুটবলার।

রতন চক্রবর্তী
কলকাতা, ২২ ডিসেম্বর ২০১২

Trevor James Morgan and PK Banerjee

পিকে-মর্গ্যানকে নিয়ে মার্কশিট বানালেন দুই কোচ ও এক ফুটবলার। ছবি- নিজস্ব চিত্র

একজন ক্লাব এবং দেশ মিলিয়ে বছর কুড়ি কোচিং করিয়েছেন। দেশের সব ট্রফি জিতেছেন। তুমুল জনপ্রিয়তা আর সাফল্যের সমুদ্রে ভেসে গিয়েছিলেন সত্তর-আশি-নব্বইয়ের দশকে।
অন্য জনের ভারতে আসা তিন বছর আগে। আর এই কম সময়ের মধ্যেই তুমুল জনপ্রিয়তা আদায় করে নিয়েছেন। টানা ৩২ ম্যাচ জিতে হইচই ফেলে দিয়েছেন। আই লিগ অধরা হলেও ফেড কাপ জিতেছেন দু’বার। জিতেছেন কলকাতা লিগ, আই এফ এ শিল্ড, সুপার কাপ।

সুব্রত ভট্টাচার্য
স্ট্র্যাটেজি এবং ট্যাকটিক্স
পিকে ৮/১০     মর্গ্যান ৩/১০
প্রদীপদাকে আমি কোচ মানলেও, মর্গ্যানকে আমি মনে করি সফল ম্যানেজার। দেশের কথা বাদ দিলাম। তখন আই লিগ ছিল না। তবে ক্লাব পর্যায়ে প্রদীপদা সেই সময়ে দেশের সব ট্রফি জিতেছেন। বহু বার। যা আই লিগ জেতার চেয়ে কম কৃতিত্বের বলে মনে করি না। আর মর্গ্যান তো এখনও আই লিগ-ই পায়নি। আমাকে, সুভাষকে, আর্মান্দোকে আগে ছুঁক। তার পর তো প্রদীপ দা-র সঙ্গে তুলনা।
প্রদীপদা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছেন। রি স্টার্ট মুভটা ওঁর থেকেই শেখা। বিপক্ষের ফুটবলারদের ধরে ধরে স্ট্র্যাটেজি তৈরি করতেন। সুরজিৎ সেনগুপ্তকে কী ভাবে আটকাবে দিলীপ পালিত, সেটা ড্রেসিংরুমে ঠিক করে দিতেন। মজিদ-জামশেদকে কী ভাবে আটকাতে হবে সেটা তো শিখে নিতাম আগের দু’দিনের অনুশীলনে। ট্যাকটিক্যাল মুভ তৈরি করতেন। ওই সময় এমন সব তারকা ছিল প্রদীপদার টিমে, যাদের সামলানো কঠিন ছিল। তা সত্ত্বেও পেনাল্টি-ফ্রি কিকে বৈচিত্র আনতে চাইতেন সব সময়।
মর্গ্যানের হাতেও এই সময়ের বেশ কয়েক জন সেরা ফুটবলার আছে। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের খেলায় বৈচিত্র দেখতে পাই না। প্ল্যান বি-ও মাঝেমধ্যেই মুখ থুবড়ে পড়ে। কর্নার-ফ্রি কিকে বৈচিত্র নেই। টিমটাকে একটা শৃঙ্খলায় বেঁধে রেখেছে মর্গ্যান। একই ফর্মুলায় চলে টিমটা। সেই পেন ফ্রি ফুটবলার, মেহতাব সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার। ফর্মেশনের ভাঙাগড়া কোথায়?

ম্যাচ রিডিং
পিকে ৮/১০     মর্গ্যান ৩/১০
প্রদীপদা-র গেম রিডিং! অসাধারণ। খেলা শেষ হওয়ার পনেরো মিনিট আগে মহম্মদ হাবিবকে বসিয়ে দিয়ে আমাকে স্ট্রাইকার পাঠিয়ে ম্যাচ জিতেছেন। স্পোর্টিং ইউনিয়নের বিরুদ্ধে শুধু মগজাস্ত্র ব্যবহার করে শেষ ছয় মিনিটে তিন গোল করে ম্যাচ বের করে নিয়ে গিয়েছেন প্রদীপদা। ’৭২-এ মহমেডানের বিরুদ্ধে জুনিয়র গৌতম সরকারকে নামিয়ে দিয়ে ম্যাচ জিতেছিলেন। ধারেকাছে নেই কেউ।
মর্গ্যান গতবার অতগুলো ম্যাচ তো খেলল আমার মোহনবাগানের বিরুদ্ধে। একটাও জিতেছে! এই তো এরিয়ানের কাছে হারল। পারল প্রয়াগ ইউনাইটেড ম্যাচ বের করতে! একেবারেই কপি বুক স্টাইল। আমি নিশ্চিত প্রদীপদা থাকলে দুটো ম্যাচ জিততেনই।

ফিজিক্যাল ফিটনেস
পিকে ৭/১০     মর্গ্যান ৮/১০
প্রদীপদার সময় ফিটনেসের দিকে ফোকাস তেমন ছিল না। ’৭২ থেকে ’৮০ এমন সব ফুটবলারকে উনি পেয়েছিলেন যারা ব্যক্তিগত ক্যারিশমায় ম্যাচ বের করে নিত। ফিজিক্যাল ট্রেনার কনসেপ্টটা তখন ছিল না। তখন এখনকার তুলনায় অনেক বেশি ম্যাচ খেলতে হত। এখন ক্লাবগুলো ডুরান্ড, রোভার্স, বরদলই, সিজার্স কিছুই তো খেলে না। কিন্তু ফুটবলাররা তা সত্ত্বেও সংঘর্ষ ছাড়া চোট পেত না।
এখন তো টিমে ফিজিক্যাল ফিটনেস ঠিক রাখার জন্য কত রকম ব্যবস্থা চালু হয়েছে। মাপজোখ, রক্তপরীক্ষা, কী হয় না! ফিজিও, রি হ্যাব স্পেশালিস্ট আছে। তবুও কেন ফুটবলাররা এত চোট পায়, জানি না। তবে যখনকার যা। মর্গ্যান কিন্তু অন্য সব দলের চেয়ে বেশ ফিট রেখেছে টিমকে। আধুনিক করেছে পুরো ব্যাপারটা। চোট পাওয়া ফুটবলারকে জোর করে খেলায় না। প্রদীপদা কিন্তু কেউ খেলতে চাইলে খেলাতেন।

ভোকাল টনিক
পিকে ৮/১০     মর্গ্যান ৮/১০
দু’জনকেই সমান মার্ক দেব মঞ্চটা ভিন্ন ছিল বলে। ভোকাল টনিকের স্টাইলটাও ছিল আলাদা। কারণ প্রদীপদার সময় ফুটবলটা ছিল অপেশাদার। নিজের তাগিদে আমরা খেলতাম। একটা চাকরি পাওয়ার জন্য খেলতাম। ক্লাব তো এত টাকা দিত না। এখন তো পুরো ব্যাপারটাই পেশাদার। সবাই টাকার জন্য খেলে। কেউই চাকরি করে না।
প্রদীপদা ক্ষুদিরাম-প্রফুল্ল চাকিদের আত্মদান, ক্লাব জার্সি, মা-বাবা, সমর্থকদের কথা বলে তাতাতেন। পরিস্থিতি বুঝে টনিক তৈরি করতেন।
মর্গ্যান শুনেছি বলেন, খেললে তোমার দাম বাড়বে পরের বছর। টাকা নিচ্ছ, ভাল খেলাটা তোমার কাজ। পেশাদার যুগে এটাই তো টনিক।

এক্স ফ্যাক্টর
পিকে ৮/১০     মর্গ্যান ৭/১০
প্রদীপদা-র সময় কর্তারা টিম গড়ে দিতেন। ধীরেন দে-র কাছে নিয়মিত টিমের রিপোর্ট দিতে হত। প্রদীপদা চাপে থাকতেন এ জন্য। এখনকার চেয়ে সদস্য-সমর্থকদের চাপ অনেক বেশি ছিল। একটা ম্যাচ হারলেই প্রচণ্ড ঝামেলা হত। এখন সেটা হয় না। গত বার একটা ডার্বি জেতেনি মর্গ্যান। কিছু হয়েছে? সমর্থকরা অনেক সহনশীল। না হলে আই লিগের ডার্বিতে মোহনবাগান কর্তারা টিম তুলে নেওয়ার মতো অপরাধ করার পরও সব চুপচাপ। মর্গ্যানের অবশ্য অন্য রকম ঝামেলা সইতে হয়। বিশেষ করে মিডিয়ার চাপ। সামান্য ভুল হলেই সমালোচনা। প্রদীপদাকে দু’তিনটে মিডিয়া সামলাতে হত। সব নিজেই সামলাতেন। ঝড়-ঝাপটা সব কিছু। টিমটা নিজেই তৈরি করেছেন, এটা তো হয়ই না এখন।

অতনু ভট্টাচার্য
স্ট্র্যাটেজি এবং ট্যাকটিক্স
পিকে ৮/১০     মর্গ্যান ৯/১০
প্রদীপদা উল্টো দিকের ফুটবলার ধরে ধরে স্ট্র্যাটেজি তৈরি করতেন। বলে দিতেন কাকে কী ভাবে আটকাতে হবে। প্রদীপদা বলতেন, একে বা ওকে আটকালেই ম্যাচটা জিতবে। মর্গ্যান সে ভাবে ভাবেন না। নিজের টিমের ফুটবলার দিয়ে স্ট্র্যাটেজি তৈরি করেন। উল্টো দিকে কে আছে তা নিয়ে রাতের ঘুম নষ্ট করেন না। কখনও বলেন না, এই ম্যাচটা জিততে না পারলে সব শেষ। যত কঠিন ম্যাচই হোক টিমের উপর চাপ আসতে দেন না।

ম্যাচ রিডিং
পিকে ৮/১০     মর্গ্যান ৯/১০
প্রদীপদার কোচিংয়ে কোনও ক্লাবে আমি খেলিনি। তবে দুটো এশিয়ান গেমসে দেশের হয়ে, বাংলা, রেলের হয়ে প্রচুর ম্যাচ খেলেছি ওঁর কোচিংয়ে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, প্রদীপদা খেলার আগে এবং বিরতিতে বোঝাতেন। কিন্তু মর্গ্যান খেলার পরেও বোঝান। দেখবেন ওর হাতে একটা কাগজ থাকে। সেখানে নোট নেন। দেখবেন ইস্টবেঙ্গল বেশির ভাগ ম্যাচেই বিরতির পর ভাল খেলেছে। বহু ম্যাচ শেষ মুহূর্তে জয় তুলে এনেছে। পুরো নব্বই মিনিট ম্যাচ রিডিংয়ের সুফল তুলতে চান। এই তো শিলিগুড়িতে ফেড কাপের সেমিফাইনালে চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে লালরামডিকাকে নামিয়ে ম্যাচটা বের করে নিলেন। প্রদীপ দা যে ম্যাগনেটিক বোর্ড ব্যবহার করতেন তার চেয়ে মর্গ্যানের হাতে থাকা বোর্ড অনেক আধুনিক।

ফিটনেস
পিকে ৯/১০     মর্গ্যান ৮/১০
প্রদীপদা-র হাতে ফিজিও বা রি হ্যাব স্পেশালিস্ট ছিল না। ছিল না আধুনিক সরঞ্জাম। তবুও মডার্ন ট্রেনিংয়ের চেষ্টা করতেন। ওই সময় ভারতীয় ফুটবলে যা করা কঠিন ছিল। বার্সেলোনা, ম্যাঞ্চেস্টারের হাওয়া ঢোকেনি। নানা ভাবে অনেক বেশি পরিশ্রম করিয়ে সবাইকে ফিট করে রাখতেন। মর্গ্যান টাইম শিডিউল ধরে অনুশীলন করান। ইস্টবেঙ্গল টিমে এ বার ফিজিও নেই। প্রদীপদার সময় প্রি-সিজন অনুশীলনের কনসেপ্টটা ছিল না। এখন যেটা আছে। প্রি সিজন সিডিউল না থাকা সত্ত্বেও প্রদীপদা টিমকে ফিট রাখতেন। এটা বিরাট ব্যাপার। এখন কোচিং করাতে এসে সেটা বুঝি। প্রি-সিজন কন্ডিশনিংয়ের পরও এখন এত চোট-আঘাত হচ্ছে।

ভোকাল টনিক
পিকে ৭/১০     মর্গ্যান ৮/১০
প্রদীপদা-র ভোকাল টনিক সেই সময় অন্যতম আলোচনার বিষয় ছিল। ভারতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে শুনেছি উনি বলছেন, “এই জার্সিটা তোমার মা। নিজের মা-কে কি মেরে ফেলতে চাও। যদি না চাও তা হলে জিতে ফেরো।” অথবা বলতেন, “ক্ষুদিরামের কথা ভেবে দেশের জন্য আত্মদান করো।” এখন এ সব বললে পেন, উগা, সুশান্ত ম্যাথু উদ্বুদ্ধ হবে? না। মর্গ্যান যেটা ড্রেসিংরুমে বলেন, তা হল ‘তুমি গ্রেট, তুমি হেরে ফিরতে পারো না।” এখন আই লিগ অনেক শক্ত টুর্নামেন্ট। টিমগুলোর মধ্যে ফারাক উনিশ-বিশ। পরের পর ম্যাচ। আজ কলকাতা লিগ তো কাল আই লিগ। মোটিভেট করা খুব কঠিন। প্রদীপদার এই চ্যালেঞ্জটা কিন্তু ছিল না। একটা টুর্নামেন্ট শেষ হলে অন্যটা হত।

এক্স ফ্যাক্টর
পিকে ৭/১০     মর্গ্যান ৭/১০
প্রদীপদা-র চেয়ে অনেক বেশি পেশাদার মর্গ্যান। ফুটবলারদের পিছনে প্রচুর খরচ করেন। বন্ধুর মতো মেশেন বাইরে। মাঠে কঠোর। কর্তা এবং টিমের মধ্যে সেতুবন্ধন করেন। বিতর্কিত প্রসঙ্গ এড়িয়ে চলেন। খুব কাছ থেকে দেখেছি বলেই জানি, রিজার্ভ বেঞ্চের ফুটবলাররাও জানে, ভাল খেললে সুযোগ আসবে। ফুটবলারদের স্বার্থের জন্য লড়ে যান। নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। প্রদীপদা সেভাবে ছেলেদের জন্য খরচ করেছেন কখনও দেখিনি। মজা করে বলতেন, “আমার দশ টাকা ব্যাঙ্কে দিলে ১০০ টাকা পাওয়া যাবে।” প্রদীপ দা কর্তাদের সঙ্গে কখনও কখনও সমঝোতা করতেন। ঝগড়ায় যেতেন না। মজার মজার গল্প বলতেন। খুব সুন্দর করে।

অ্যালভিটো ডি’কুনহা
স্ট্র্যাটেজি এবং ট্যাকটিক্স
পিকে ৭/১০     মর্গ্যান ৮/১০
প্রদীপ স্যারের কোচিং-এ আমি ক্লাবে খেলিনি। দেশের হয়ে খেলেছি প্রি-অলিম্পিকে। উনি অনেক দিন খেলেছেন ক্লাবে। দেশের হয়ে। ফলে অভিজ্ঞতাটা কাজে লাগাতেন। আমরা তাইল্যান্ডে গিয়ে হেরেছিলাম। কিন্তু এখানে এসে ড্র করেছিলাম। প্রদীপ স্যার স্ট্র্যাটেজি তৈরি করতেন বিপক্ষকে দেখে। মর্গ্যান তা করেন না। তিনি নিজের টিমের শক্তি-দূর্বলতা দেখে নিজের ট্যাকটিক্স ঠিক করেন। দারুণ অনুশীলন করান। সবাই খুব আনন্দ পায়।

ম্যাচ রিডিং
পিকে ৭/১০     মর্গ্যান ৮/১০
অনেক প্রাক্তন ফুটবলারের মুখে শুনেছি যে প্রদীপ স্যার নাকি শুধু সঠিক পরিবর্ত নামিয়ে ম্যাচ জিততেন। আমি ওঁকে যতটুকু দেখেছি তাতে উনি যা করতেন সব শুরুতে অথবা বিরতিতে। আগেই বলে দিতেন বিপক্ষের শক্তি দুর্বলতা। কিন্তু মর্গ্যান ম্যাচ চলতে চলতেই অনেক কিছু করেন। দেখবেন ওঁর হাতে একটা কাগজ থাকে। সব সময় তাতে লেখেন। দেখেন। পুরো নব্বই মিনিট ধরেই তিনি নানা ভাবে ফর্মেশন বা স্টাইল বদলান। সেটা বহু ম্যাচে কাজেও লাগে।

ফিটনেস
পিকে ৮/১০     মর্গ্যান ৮/১০
প্রদীপ স্যারের কাছে আমি বড়জোর এক মাস কোচিং পেয়েছি। তখন আধুনিক সাজ-সরঞ্জামের ব্যবহার ছিল না। হোটেলে সুইমিং পুল বা জিম থাকত না। তার মধ্যেই পুরো টিমকে নানা রকম অনুশীলন করাতেন। যাতে সবাই ফিট থাকে। সেটা তো কাজে লেগেছিল।
মর্গ্যানও প্রি-সিজন কন্ডিশনিংটা দুর্দান্ত করান। বিশ্ব ফুটবলের আধুনিকতা আনার চেষ্টা করেন। দেখবেন অন্য দলের তুলনায় আমাদের টিমে চোট পাওয়া ফুটবলার কম। কোনও ফুটবলার চোট পেলে তাকে সুস্থ হওয়ার সময় দেন। আলাদা করে ট্রেনিং শিডিউল করে দেন।

ভোকাল টনিক
পিকে ৭/১০     মর্গ্যান ৮/১০
পি কে স্যার যখন জাতীয় দলে আমাদের কোচিং করাতেন তখন ওকে খুব ভয় পেতাম। শুনতাম উনি দেশের অন্যতম শ্রদ্ধেয় কোচ। খুব রাশভারী লাগত ওঁকে। পরে অনেক বার কথা বলেছি। ভাল মানুষ। উনি আমাদের বলতেন, “দেশের হয়ে খেলা ভাগ্যের ব্যাপার। দেশকে জেতানোর আনন্দই আলাদা।”
ওঁকে কখনও রাগ করতে দেখিনি। মর্গ্যান কিন্তু রাগ করেন। বিশেষ করে বিরতিতে দলের খেলা যদি খারাপ হয় বা দল যদি পিছিয়ে থাকে।
এমনি সময় বন্ধুর মতো মেশেন। নানা ঠাট্টা ইয়ার্কি করেন। কিন্তু খেলার সময় প্রচণ্ড সিরিয়াস। রাগী। এত দিন দেখার পর মনে হয় ওই রাগটাই ভোকাল টনিক।

এক্স ফ্যাক্টর
পিকে ৭/১০     মর্গ্যান ৮/১০
পি কে স্যার শুনেছি ফুটবলারদের যা বলতেন তা ড্রেসিংরুমের ভিতর। বাইরে সবাইকে আড়াল করতেন। ফুটবলারদের সঙ্গে বাবা-ছেলের মতো সম্পর্ক রাখতেন। মর্গ্যান কিন্তু সব ঝড়ঝাপটা থেকে আড়াল করেন ফুটবলারদের। কেউ মাঠে ভুল করলে বা কোনও গোলকিপার গোল খেলে সাংবাদিকদের সামনে এসে তাকে বাঁচান। এখন তো মিডিয়ার যুগ। কিছু একটু হলেই সমালোচনা। ঝামেলা। হার-জিত তো খেলায় আছেই। সেখানে ফুটবলারদের বাঁচানোটা বিরাট ব্যাপার।

মার্কসিট
পিকে ১১৪/১৫০
মর্গ্যান  ১১০/১৫০

আনন্দবাজার পত্রিকা

অন্যরা যা পড়ছেন

এই বিষয়ে আরও

জনপ্রিয়

সমস্ত ভিডিও

বর্ধমানে তরুণীর উপর অ্যাসিড হামলা

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 1 জন

কালো টাকা নিয়ে জেটলি যা বললেন

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 0 জন

দেব-শ্রাবন্তীর বিন্দাস প্রেম

শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস্

দেখেছেন 0 জন

তাপস পাল লোফার নন, ল' মেকার

এবিপি আনন্দ।

দেখেছেন 0 জন