বইপাড়া

ঋত্বিক এক নদীর নাম

লেখক- সংহিতা ঘটক, প্রকাশক- দে'জ, দাম- ২০০ টাকা

আশিস পাঠক
কলকাতা, ২১ ডিসেম্বর, ২০১২

ritwik ek nadir nam

ঘনিষ্ঠতর ঋত্বিক-দর্শনের সুযোগ করে দিলেন ঋত্বিককন্যা সংহিতা ঘটক। ছবি- দে'জ।

প্রথাগত অর্থে কোনও পূর্ণাঙ্গ আত্মজীবনী লেখেননি ঋত্বিককুমার ঘটক। এখানে-ওখানে ছড়ানো-ছেটানো মণিমুক্তোভরা সাক্ষাৎকার, ছোট লেখা নিজের পুরনো জীবন নিয়ে এইমাত্র ঋত্বিকের বর্ণময় জীবনকে জানার উপকরণ। অবশ্য, সাজিয়েগুছিয়ে নিজেকে উপস্থিত করার মতো প্রতিভাই ছিলেন না তিনি। নিজেকে নিয়ে বেশি বিলাসিতাও তাঁর ছিল না। তবু বহু বার নিজস্ব অননুকরণীয় ঢঙে বহু সাক্ষাৎকারে বলেছেন নিজের কথা, নিজের ছবি করার কথা। তেমন সাক্ষাৎকারের বয়ান থেকে ভেঙে তাঁর একটি আত্মজীবনীপ্রতিম কথা-কোলাজও বেশ কয়েক বছর আগে নির্মাণ করেছিলেন সন্দীপন ভট্টাচার্য, নিজের পায়ে নিজের পথে।

কিন্তু এ বার ঘনিষ্ঠতর ঋত্বিক-দর্শনের সুযোগ করে দিলেন ঋত্বিককন্যা সংহিতা ঘটক। তাঁর 'ঋত্বিক এক নদীর নাম' (দে’জ) মেয়ের চোখে দেখা বাবার কথা। সে কথায় ঋত্বিকের জীবনের আগাগোড়া একটি পরিচয় আছে, তবে সবচেয়ে বেশি ইতিহাসনিষ্ঠ ও জীবনঘনিষ্ঠ তাঁর শেষের দিনগুলি। সেই দিনগুলি, যখন কাজ করতে না-পারার যন্ত্রণা নিয়ে ঋত্বিক ক্রমেই ডুবে যাচ্ছিলেন মদ্যপানে। সেই ব্যর্থতা, যন্ত্রণা কাছে থেকে উপলব্ধি করেছেন সংহিতা। তাঁর গদ্য সেই যন্ত্রণায় বোনা:

‘অ্যালকোহলিক’ গোবরা মেন্টাল হসপিটালের কথা মায়ের কাছ থেকে সেদিন স্কুল থেকে ফেরার পর শুনেছিলাম। মাকেও ওষুধ খেতে হত। অত্যন্ত অবাক হয়েছিলাম এত সব কিছু ঘটে গেছে। ভাবতাম বাবা কেন বলত “আমাকে আরও যন্ত্রণা পেতে হবে। আমার অধিকার আছে আমার মতো কাজ করে বেঁচে থাকার, মধ্যবিত্ত মার্কা পুতুপুতু জীবন আমার ভালো লাগে না। কোন শালা আমার জন্য সত্যিকারের কিছু ভেবেছে? আমিই হয়ে গেলাম উপহাসের পাত্র। আমি বুঁদ হয়ে থাকি সৃষ্টির জগতে। প্রতিদিন কিছু আহরণ করি এ জীবন থেকে, বেঁচে থাকাটাই যেখানে এক বিস্ময়। নিজের চরকায় নিজে তেল দাও...না হলে বসে বসে মাঝে মাঝে ল্যাজ নাড়াও।”

কোনও কিছু আড়াল করার চেষ্টা করেননি সংহিতা। ইন্দিরা গাঁধী সম্পর্কে ঋত্বিক তাঁর সাক্ষাৎকারে যে অসংসদীয় শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন সেটিও। তবে সেই সঙ্গে এ কথাও বলেছেন, কথাটি ঋত্বিক অফ দ্য রেকর্ড বলেছিলেন, সাংবাদিক ছাপিয়ে দেন। এ বইয়ের সবচেয়ে বড় গুণ এই যে, নিজের বাবাকে অযথা বড় করে দেখানোর চেষ্টা করেননি কন্যা, পারিবারিক কারও স্মৃতিকথায় যে আশঙ্কা থেকেই যায়।

কিন্তু এমন একটি বই কী করে কোনও রকম ব্যক্তিপরিচিতি বা ইনডেক্স ছাড়াই ছাপা হয়ে যেতে পারে, বোঝা গেল না। মহেন্দ্র কুমারের সংগ্রহ থেকে ঋত্বিকের যে দুর্লভ ছবিগুলি ছাপা হয়েছে সেগুলি বেশ ভাল- মুদ্রণমানও উল্লেখযোগ্য।

জনপ্রিয়

সমস্ত ভিডিও

বর্ধমানে তরুণীর উপর অ্যাসিড হামলা

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 1 জন

কালো টাকা নিয়ে জেটলি যা বললেন

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 0 জন

দেব-শ্রাবন্তীর বিন্দাস প্রেম

শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস্

দেখেছেন 0 জন

তাপস পাল লোফার নন, ল' মেকার

এবিপি আনন্দ।

দেখেছেন 0 জন