বিনোদন
বাংলা ছবির চুপকথা
সৌম্য পাকড়াশি
কলকাতা,১১ ডিসেম্বর ২০১২
সম্প্রতি মুক্তি পেল একটি ঝকঝকে নতুন বাংলা ছবি 'চুপকথা'। সেই ছবি মুক্তির সূত্রে তারকাদের ঢল নেমেছিল উত্তর কলকাতার স্টার থিয়েটার-এ। তবে ঢল নেমেও কি সম্পূর্ণতা পেল 'চুপকথা'র প্রিমিয়ার? বোঝা গেল না! একটু অবাকই হলাম বরং। ছবি মুক্তি পেলে পরিচালকের সঙ্গে সঙ্গে অভিনেতাদেরও তো একটা দায় থেকেই যায়, অন্তত মূল চরিত্রাভিনেতাদের। কিন্তু বারবার মনে হচ্ছিল ছবিটির সবরকম দায় নবাগত পরিচালকজুটি সৌভিক-দীপঙ্কর-এর। প্রথমে বলে নি খটকার জায়গাগুলো। তারপর দেখে নেব, ছবি নিয়ে কী বললেন ছবির সঙ্গে যুক্ত উপস্থিত তারকারা এবং কী-ই বা বললেন ছবির নবীন পরিচালকজুটি।
দায়সারার 'চুপকথা':
সত্যি বলতে কী, ছবির চুপকথা-র থেকে বেশি নাড়া দিল পরিস্থিতির চুপকথা! এখন প্রশ্ন, কী এমন পরিস্থিতি ছিল চুপকথার প্রিমিয়ার-এ? আসলে যাঁদের ঘিরে ছবিটি তৈরি, যাঁরা কিনা চুপকথার 'তারকা', তাঁরাই নাকি উপস্থিত থাকবেন না ছবিটির প্রিমিয়ারে। ছবির স্ক্রিপ্টরাইটার এবং অন্যতম পরিচালক সৌভিক বিনয়ী গলায় জানালেন শিলাজিৎ এবং ভাস্বর- দুজনেরই শুটিং-এর অজুহাতে অনুপস্থিতির কথা। স্বাভাবিকভাবেই উপস্থিত প্রত্যেকের মুখে হতাশা স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। সমীকরণটা ঠিক মেলানো যাচ্ছিল না! ছবির প্রধান নামগুলির মধ্যে তো এঁরাই প্রথম সারির দুটির নাম; আর এঁরাই যদি ছবির প্রিমিয়ারকে গুরুত্ব না দেন, তাহলে যে কোনও প্রাসঙ্গিকতাই থাকে না অনুষ্ঠানটির।
এ তো গেল মর্মাহত হওয়ার প্রথম অধ্যায়! দ্বিতীয় অধ্যায়ের কাহিনিটা একটু অন্যরকম। শিলাজিৎ এবং ভাস্বর যখন হতাশ করলেন, তখন পড়ে পাওয়া চোদ্দ আনার মতো পড়ে ছিল আর একটাই নাম, অপরাজিতা আঢ্য। অপরাজিতা এলেন, কিন্তু সবার শেষে। ছবি শুরু হয়ে বিরতির সময় উপস্থিত, সবাই প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছেন যখন, ঠিক তখনই শেষমেষ দেখা পাওয়া গেল নায়িকার। তাও অপরাজিতাকে খুব দোষ দেওয়া গেল না। অপেক্ষা করিয়েছেন বটে, কিন্তু অনুপস্থিত তো ছিলেন না! এই গেল খামতির কথা। তবে খামতি ছেড়ে এবার প্রিমিয়ারের ভাল দিকগুলো দেখে নেওয়া যাক।
চুপকথা : প্রিমিয়ার কাহিনি
সৌভিক-দীপঙ্কর দুজনেরই এটাই প্রথম ছবি। পূর্ণ উদ্যমে সবদিক সামলাচ্ছিলেন দুজনেই। তার মাঝে ছবির সম্পর্কে সৌভিক বললেন, আমাদের জীবনে সম্পর্কের প্রয়োজনীয়তার কথা। সম্পর্ক ভাঙে, গড়ে কিন্তু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাটাই আসল, বললেন সৌভিক। গড়ের মাঠ, কলকাতার বিভিন্ন রাস্তা, হাসপাতাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় শ্যুটিং হয়েছে ছবিটির। ছবিটি নিয়ে খুব আশাবাদী দুজনেই।
আর ছবির নায়িকা পায়েল-এরও এটা প্রথম ছবি। ছবিটি নিয়ে বেশ উচ্ছাস প্রকাশ পাচ্ছিল তাঁর বক্তব্যে। পায়েল নিজে শিলাজিতের খুব বড় ফ্যান বহুদিন ধরে। প্রসঙ্গত চুপকথার সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন শিলাজিৎ। ছবির গানের তাই ভূয়সী প্রসংশা করলেন পায়েল, গানগুলি সব বয়সের মানুষের কাছে সমান গ্রহণযোগ্য হবে বলে বিশ্বাস তাঁর। নিজের চরিত্র এবং অভিনয় নিয়েও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী শোনাল পায়েলের গলা। ছবিতে পায়েলের চরিত্রের নাম অনু। অনু একজন তার থেকে বেশি বয়েসের পুরুষের প্রেমে পড়ে যায়। অনুর চরিত্রের মধ্যে দিয়ে একটি মানুষের দুটি বয়েসকে ধরা হয়েছে। সেই কারণেই চরিত্রটা বেশ 'চ্যালেঞ্জিং' ছিল, বললেন পায়েল। তাছাড়া পায়েলের বক্তব্যে ছবিটির সমাপ্তি খুবই অপ্রত্যাশিত।
আর অপরাজিতা আঢ্য অভিনীত চরিত্রের নাম পলা। পলা নিজের লেখা একটি ডায়রি অনুকে দিয়ে যায়, তারই নাম হল চুপকথা। সেই ডায়রিকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে ছবির গল্প। সাধারণ জীবনে থেকে অসাধারণ হয়ে ওঠার গল্প চুপকথা, বললেন অপরাজিতা। পাশাপাশি, সৌভিক-দীপঙ্করের ধৈর্যেরও চূড়ান্ত প্রশংসা করলেন অপরাজিতা। আরও বিভিন্ন তারকারা উপস্থিত ছিলেন সেদিন, তবে শিলাজিৎ ও ভাস্বরের অনুপস্থিতি আগাগোড়া অনুষ্ঠানটির জেল্লা কেড়ে নিয়েছিল। এখন সবকিছুর শেষে সৌভিক-দীপঙ্কর যেন তাঁদের পরিশ্রমের সুফল পান, এটুকু কামনা তো করা যেতেই পারে, তাই না?













