বিনোদন
ট্রেনের কামরায় শাহরুখ-দীপিকা
সৌম্য পাকড়াশি
কলকাতা, ১২ ডিসেম্বর, ২০১২
বলিউডের বেতাজ রোম্যান্স কিং-এর ভাঁড়ারে কি টান পড়েছে? নাকি পুরনো মদ নতুন বোতলে মানায় ভাল? তা নইলে শাহরুখ কেন এখনও আটকে আছেন যশ রাজ ব্যানার প্রদর্শিত সেই পুরনো রোম্যান্টিক ফর্মুলায়? তাই তো ইদানিং করছেন তিনি। হয় সরাসরি যশ রাজ ব্যানারে, নইলে অন্য ব্যানারে- কিন্তু রোম্যান্সের কাঠামোটা এক! ওই ট্রেন থেকে হাত বাড়িয়ে ছুটন্ত নায়িকাকে হাতের মুঠোয় করে ফেলা!
ছবিটা মনে আছে তো? সালটা ১৯৯৫। মুক্তি পায় যশ চোপড়ার ছবি, 'দিলবালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে'। নামটা আলাদা করে মনে করার কিছু নেই, কারণ নামটা কখনও ভোলারই নয়। শোলে, জঞ্জীর-এর পর যদি কোনও হিন্দি ছবি ইতিহাস তৈরি করে থাকে সেটি হল ওই ডিডিএলজে। রোম্যান্টিকতার সঙ্গে পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধের এক অপরূপ মিশ্রণ ছিল ছবির পরতে পরতে। শুধু দেশে জনপ্রিয়তা প্রাপ্তিতেই শেষ হয়নি, প্রশংসা মিলেছিল ভিনদেশেও। আজও রাজ-সিমরনের কেমিস্ট্রি নিয়ে সমালোচনা করার দুঃসাহস নেই কারও।
এখন সেই কেমিস্ট্রির মধ্যে সবচাইতে জোরাল দৃশ্য কোনটি? সব্বাই একবাক্যে বলবেন, ছবির শুরু দিকে এবং শেষে ছুটন্ত কাজলকে হাত বাড়িয়ে শাহরুখের ট্রেনে তুলে নেওয়া। এ দৃশ্য যেন একটা কিংবদন্তি হয়ে আছে ভারতীয় ছায়াছবির ঘরানায়। এমনকি এত বছর পরেও, 'সন অফ সর্দার'-এর মতো ছবিও নায়ক-নায়িকার রসায়নে রাখতে ভোলেনি এমন এক দৃশ্য!
এখন কপিরাইট বলেও যদিও কিছু নেই দৃশ্যটির; তবু তাঁর প্রদর্শিত পথে অন্যান্যদের সাফল্য এলে কি কারও মাথা থাকে? বিশেষ করে 'সন অফ সর্দার' ছবিটা নিয়ে একচোট মনোমালিন্যতেও তো পড়েছিলেন শাহরুখ। তাই কি তিনি এবার মরিয়া নিজের জিনিস নিজের কাছেই রাখতে? নইলে রোহিত শেঠির পরিচালনায় শাহরুখের পরবর্তী ছবি 'চেন্নাই এক্সপ্রেস'-এর শ্যুটিং-এ কেন দেখা যাবে একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি? তফাতের মধ্যে নায়িকার জায়গায় কাজলের বদলে থাকবেন দীপিকা পাড়ুকোন!
কিন্তু ছায়াছবিখোরদের মনে একটা আতঙ্কও কাজ করছে এই খবরটা শুনে! কেন? ডিডিএলজে-এর শেষ দৃশ্যটা একবার চোখ বন্ধ করে ভাবুন। শাহরুখের বাড়ানো হাত, চলন্ত ট্রেন আর নায়িকার ছুটে চলে আসা তার প্রেমিকের কাছে, সমস্ত বাঁধন ভেঙে। এই একই কেমিস্ট্রি শাহরুখ-দীপিকা জুটিতে মিলবে তো? নাকি নতুনটার অনুষঙ্গে হাসির খোরাক হবে পুরনোটাও? এখনই যে তা বলা কঠিন। পরীক্ষা প্রার্থনীয়!













