বিনোদন
হাতের মুঠোয় নিষিদ্ধ ছবি
শর্মিষ্ঠা দত্ত
কলকাতা,১৪ ডিসেম্বর ২০১২
বছর দুয়েক আগেও কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবে ছবিটি দেখানো নিয়ে পাইরেসি-র অভিযোগ উঠেছিল।
ভারতে ছবিটি দেখানোয় একটা সময়ে বড় বাধা ছিল।
সত্যজিৎ রায়ের বিতর্কিত সেই ছবি ‘সিকিম’ এ বার হাতের মুঠোয়। সুখী গৃহকোণে টিভি-র সামনে বসে রিমোটের বোতাম টিপলেই হল। সৌজন্য, এঞ্জেল ভিডিও।
ছবিটির বর্তমান স্বত্বাধিকারী ‘আর্ট অ্যান্ড কালচার ট্রাস্ট অফ সিকিম’-এর ম্যানেজিং ট্রাস্টি উগ্যেন চোপেল ওই চলচ্চিত্র উৎসবের সময়ই বলেছিলেন, ছবিটি তাঁর অনুমতি না নিয়েই দেখানো হয়েছে। উৎসবের তদানীন্তন ডিরেক্টর তথা নন্দনের সিইও নীলাঞ্জন চট্টোপাধ্যায় তা অস্বীকার করলেও নথিপত্র ঘেঁটে দেখা গিয়েছিল উৎসব কর্তৃপক্ষ রীতিমতো চিঠি দিয়ে ‘সিকিম’-এর ডিভিডি চেয়েছিলেন ‘সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন’ বা সেন্সর বোর্ডের কাছে। সেটাই সবচেয়ে আশ্চর্য ও রহস্যময়। কারণ সেন্সর বা ফিল্ম সার্টিফিকেশন বোর্ডের কাছে কোনও চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানোর জন্য ছবি চাওয়াটাই অস্বাভাবিক। কিন্তু সে সব পেরিয়ে এখন ‘সিকিম’-এর ডিভিডি অফিশিয়ালি প্রকাশিত, পাইরেসির দরকার আর নেই।
১৯৭১ সালে সিকিমের তৎকালীন রাজা বা ‘চোগিয়াল’-এর অনুরোধে ইংরেজি ভাষায় ছবিটি তৈরি করেন সত্যজিৎ। ১৯৭৫ সালে সিকিম ভারতের বাইশতম রাজ্য হিসেবে ঘোষিত হয়। রাজনৈতিক সেই পালাবদলের সময় ছবিটির নেগেটিভটিরও আর কোনও সন্ধান মেলেনি। তবে তার একটি প্রিন্ট পাওয়া গিয়েছিল সিকিমে, একটি লন্ডনের ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে। দু’টিরই অবস্থা খুব খারাপ ছিল। কারও কারও মতে, তৎকালীন চোগিয়ালের মার্কিন স্ত্রী হোপ কুকের ব্যক্তিগত সংগ্রহে আছে একটি প্রিন্ট। কিন্তু তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। শেষে সত্যজিৎ রায়ের ছবির লন্ডনের পরিবেশক ‘কনটেম্পোরারি ফিল্মস’-এর কাছে পাওয়া প্রিন্ট থেকে এখন ‘অ্যাকাডেমি অফ মোশন পিকচার্স আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস'-এ পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে।
সেই পুনরুদ্ধার করা প্রিন্ট থেকেই ‘সিকিম’ এখন সত্যজিৎ-প্রেমীর ঘরে ঘরে।













