বিনোদন

কলকাতায় ভোপাল

সৌভিক চক্রবর্তী
কলকাতা,১৬ ডিসেম্বর ২০১২

drama

জোয়ানা শেরম্যান এর নাটক ভোপাল। ছবি- সৌভিক চক্রবর্তী।

কিছুদিন আগেই পশ্চিমবঙ্গ নাট্য অকাদেমি আয়োজিত নাট্যমেলায় মঞ্চস্থ হয়ে গেল আমেরিকান পরিচালক জোয়ানা শেরম্যান এর নাটক "ভোপাল"। নাটকটি আমেরিকার বন্ডস্ট্রিট থিয়েটার এবং এপিল অ্যাক্টরস ওয়ার্কশপের শিল্পীদের যৌথ উদ্যোগ। খুব বেশিদিন আগের কথা না। এই তো ১৯৮৪ সালের ৩ ডিসেম্বর। পৃথিবীর ইতিহাসে সে এক অভিশপ্ত দিন। যথেষ্ট সাবধানতার অভাবে বিস্ফোরণ ঘটল ভোপালের ইউনিয়ন কার্বাইড কোম্পানিতে। মুহূর্তে ভোপালের আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল বিষাক্ত প্রাণঘাতী রাসায়নিক মিথাইল আইসোসায়ানের্ট। সেদিন প্রাণ যায় ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষের, মারা যায় অসংখ্য গৃহপালিত পশু। এই ঘটনার সব দায় অস্বীকার করে ইউনিয়ন কার্বাইডের মার্কিন মালিক ডাও কেমিকেলস। বিষ বাতাসের ছোবলে পরবর্তীকালে দেহবিকৃতি নিয়ে জন্ম নেয় অসংখ্য শিশু। আর এই রক্তক্ষরণের ইতিহাস বহন করে চলে উত্তরপুরুষ। সেই অবাঞ্ছিত মৃত্যুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ধ্বনিত হল আরও একবার। রবীন্দ্রসদনে।

প্রতিবাদ এল জোয়ানা শেরম্যান এর নাটক "ভোপাল" এর মাধ্যমে। বেশ আশ্চর্য লাগল, তাই না? ইউনিয়ন কার্বাইড মার্কিন মুলুকের কোম্পানি অথচ খোদ আমেরিকাতেই ভোপাল দুর্ঘটনা নিয়ে নাটক! খটকা লাগতেই পারে কিন্তু জোয়ানা শেরম্যান জানালেন এ আসলে থিয়েটার বোধ। একটা জাতি যখন আক্রান্ত হয় তখন থিয়েটারের মানুষ হিসেবে দায়িত্ব তাদের পাশে দাঁড়ানো। নয়তো ইতিহাসকে অস্বীকার করা হয়। আমেরিকাতেও অনেক প্রশ্ন এবং বিরোধিতার মুখোমুখি হয়েছিল নাটকটি। অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছিল কোন স্বার্থে এই স্বদেশ বিরোধিতা? জোয়ানার মতে এই বিরোধিতা সারা পৃথিবীব্যাপী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। ভোপাল বা ভিয়েতনাম শিখিয়েছে থিয়েটার কর্মী হিসেবে দেশ নিরপেক্ষ হয়ে কথা বলতে।
          
নাটকটিতে তিনি দেখিয়েছেন ইউনিয়ন কার্বাইড কোম্পানি যদি আমেরিকায় হয়, তাহলে যে সব শর্ত মানা হবে, ভারতে বা তৃতীয় বিশ্বের দেশে সে সব মানা হয় না। দেখিয়েছেন পুঁজিবাদের দুনিয়াজোড়া খিদের সামনে তৃতীয়বিশ্বের নাগরিকদের জীবন কতটা শস্তা। এ নাটক একই সঙ্গে কাঠগড়ায় দাঁড় করায় আমাদেরও। আমরা যারা ভয়ের চোটে অন্ধ সেজে থাকি, তাদের নিয়ে বিদ্রুপ করে জোয়ানার এই নাটক। এসব কিছু নিয়েই প্রতিবাদ জমতে জমতে ভোপাল হয়ে ওঠে নাগরিক কন্ঠস্বর।
        
আমেরিকাতেও নাটকটি তীব্র জনসমর্থন পেয়েছে। সরকারের অনিচ্ছা সত্ত্বেও পাশে দাড়িয়েছেন সাধারণ মানুষ। আমেরিকায় এখনো রিসেশনের প্রভাব। অর্থ সাহায্য কমেছে সবেতেই। তবে সবথেকে বেশি আক্রান্ত সাহিত্য ও থিয়েটার। আর্টস কাউন্সিল ভর্তুকি কমিয়েছে। কমেছে স্কলারশিপের সংখ্যা। নাটকটি মঞ্চস্থ করতে তাই বেশ বেগ পেতে হয়েছে জোয়ানাকে।
          
কিন্তু প্রতিবাদ তো সব প্রতিবন্ধকতা তুবড়ে দিয়েই উঠে আসে। প্রমিথিউস আর সারা পৃথিবীর আগুন এক হয়ে যায়। তাই আজও পৃথিবীর আপামর নিগৃহীত মানুষের পাশে দাড়ায় থিয়েটার। আমেরিকাতেও মঞ্চস্থ হয় "ভোপাল"। আর নাটক শেষে কলকাতাবাসীর অকৃপণ হাততালি প্রমান করে অত্যাচারীর কোনও দেশ নেই, জাত নেই। তার জন্য পড়ে থাকে শুধু একরাশ ঘৃণা।


 

অন্যরা যা পড়ছেন

এই বিষয়ে আরও

জনপ্রিয়

সমস্ত ভিডিও

ফিরে আসছে সুপারম্যান

ওয়ার্নারব্রাদ্রার্সপিকচার্স

দেখেছেন 5 জন

কলকাতার ভিড়ে নাকাল রণবীর

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 7 জন

খুচরোর খরায় ডিউ স্লিপ!

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 49 জন

আমে স্বস্তি, মুরগিতে অস্বস্তি

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 105 জন