বড়চর্চা

বিমল মিত্র

স্বপনকুমার দে
কলকাতা, ১৭ এপ্রিল ২০১২

Bimal Mitra

এ বছর বিমল মিত্রের জন্ম শতবর্ষ। ছবি- ফাইল চিত্র

১৯৮৫ সাল। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে গবেষণার কাজ করছি। সেই সূত্রে তাঁর সঙ্গে পরিচয়। সে সময়ের অসাধারণ জনপ্রিয় সাহিত্যিক। তাঁর বই-ই বোধ করি সবচেয়ে বেশি অনূদিত। একটি চিঠিতে তিনি আমন্ত্রণ করলেন তাঁর বাড়িতে। মিষ্টি খাওয়ালেন। আর এক দিন তাঁর বাড়িতে গিয়েছি। সাক্ষাৎকার নিচ্ছি। জিজ্ঞেস করলাম, ‘সাহেব বিবি গোলাম’ ফিল্মটা আপনার কেমন লেগেছিল? শুনে তিনি বললেন, ‘তোমাকে কী বলব! চার জন প্রডিউসার আমার পিছনে ঘুরছিল। আর আমি ধরা দিচ্ছিলাম না। আসলে ব্যাপারটা হল কোনও বিয়ে বাড়িতে গিয়ে প্রযোজক হয়তো দেখেছেন ‘সাহেব বিবি গোলাম’ অনেকেই উপহার দিচ্ছে; তখন ভেবেছেন, এ বইটা দেখছি খুবই জনপ্রিয়, ফিল্ম করলে প্রচুর টাকা হবে। ওরা টাকা দেখে; সাহিত্য তো বোঝে না।’
তা ছাড়া তিনি চেয়েছিলেন, আগে লোকে বইটা পড়ুক। ফিল্ম হলে তো বইটা পড়বে না। এ প্রসঙ্গে প্রযোজক গুরু দত্তের অবশ্য খুব প্রশংসা করলেন। গুরু দত্ত তাঁকে বোম্বাই (অধুনা মুম্বই) নিয়ে গিয়েছিলেন ‘সাহেব বিবি গোলাম’-এর হিন্দিতে চিত্রনাট্য করবার জন্যে।
১৯৮৬ সালে চাকরির সূত্রে কলকাতার বাইরে চলে যাওয়ায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ ক্রমে কমে আসতে থাকে। তবু মাঝে মধ্যে চিঠি লিখতাম। উত্তরও পেতাম। ১৯৯১ সালের ডিসেম্বরে তো তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন।
এত বছর পরে তাঁর কথা লিখতে বসে সব কেমন স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। কিন্তু স্বপ্ন তো নয়, কত দুপুর, কত সন্ধে তাঁর সান্নিধ্যে কেটেছে আমার। কোনও সমস্যার কথা বললে বিমল মিত্র বলতেন, ‘সমুদ্রের তরঙ্গ থামবে আর তুমি স্নান করবে, তা তো হতে পারে না। ওই তরঙ্গের মাঝেই তোমাকে স্নান করতে হবে।’ তাঁর এ কথা আজও ভুলিনি। এ বছর তাঁর জন্ম শতবর্ষ।

আনন্দবাজার পত্রিকা

জনপ্রিয়

সমস্ত ভিডিও

বর্ধমানে তরুণীর উপর অ্যাসিড হামলা

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 1 জন

কালো টাকা নিয়ে জেটলি যা বললেন

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 0 জন

দেব-শ্রাবন্তীর বিন্দাস প্রেম

শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস্

দেখেছেন 0 জন

তাপস পাল লোফার নন, ল' মেকার

এবিপি আনন্দ।

দেখেছেন 0 জন