বড়চর্চা

তপন সিংহ

শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতা, ১৯ মে ২০১২

Tapan Sinha

এক জন বললেন, তপনদার ছবিতে মেক-আপ লাগে না। ছবি- ফাইল চিত্র

তখন বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয় করে ফেলেছি। এক দিন ফোন পেলাম পরিচালক তপন সিংহর কাছ থেকে। বললেন, প্রতিবন্ধীদের নিয়ে একটি সিনেমা করছেন। স্ক্রিপ্টটা দেখে দিতে হবে। ডাক্তাররা রোগীদের সঙ্গে যে বিশেষ ভাষায় কথা বলেন, সেটা স্ক্রিপ্টে আনতে হবে। স্ক্রিপ্টে ডাক্তার আর রোগীর কথপোকথনের খানিকটা পড়ে বললেন, আপনি হলে কি এই ভাবেই বলতেন? বললাম, না। তার পর পুরো স্ক্রিপ্টটাই কেটেকুটে নতুন করার স্বাধীনতা দিলেন।
এর মাস দেড়েক পর আবার তপনবাবুর ফোন পেলাম, ‘হুইল চেয়ার’ বলে যে ছবিটা করছেন তাতে চিকিৎসকের একটি পার্ট আমি করব কি না? সঙ্গে বিনীত ভাবে বললেন, পার্টটা কিন্তু ছোট। বললাম, আপনার ছবিতে অভিনয় করব সেটাই তো বড় কথা।
বনহুগলি গ্রুপ অব হসপিটালস-এ শুটিং হবে। পৌঁছে দেখি মেক-আপ ম্যান নেই, বাইরের কেউ নেই। শুধু প্রোডাকশনের কয়েক জন। এক জন বললেন, তপনদার ছবিতে মেক-আপ লাগে না। এ ভাবেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়াবেন। নিখুঁত সেট। হাসপাতালের রেডিয়োলজি বিভাগ যেমন হওয়া উচিত ঠিক সে রকম। পার্ট বুঝিয়ে দিলেন। সহকর্মী চিকিৎসককে বোঝাতে হবে যে রোগীর সারভাইকাল রিজিয়নে ফ্রাকচারের জন্য প্যারালিসিস হয়েছে। ক্যামরা চালু হল। আগের কয়েকটি ছবিতে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বেশ জমিয়ে অভিনয় করলাম। শট শেষে জিগ্যেস করলাম, কেমন হয়েছে। আড়ালে নিয়ে গিয়ে বললেন, ভাল, কিন্তু হয়নি। প্রায় কানে কানে বললেন, আপনাকে তো যাত্রা করার জন্য আনিনি। তা হলে তো চিৎপুর থেকে কাউকে নিয়ে আসতে পারতাম। আপনার অধীনে যখন ভর্তি ছিলাম, তখন কি এ ভাবেই কথা বলতেন? আমি সেই ডাক্তার শান্তনুকেই চাই। বুঝলাম উনি কোনও অভিনয় চান না। সেকেন্ড শট। এক বারে ও কে।

আনন্দবাজার পত্রিকা

অন্যরা যা পড়ছেন

এই বিষয়ে আরও

জনপ্রিয়

সমস্ত ভিডিও

প্রচারে সঙ্গীতা-আজাহার

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 205 জন

জয়ের সংসার চলে কার টাকায়?

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 548 জন