বড়চর্চা

মোহিত চট্টোপাধ্যায়

জগন্নাথ বসু
কলকাতা, ৯ জুন ২০১২

Mohit Chattopadhyay

ছবি- ফাইল চিত্র

জঙ্গিপুর কলেজের পাট চুকিয়ে কলকাতায় ফিরে এলেন অধ্যাপক কবি। কবিতার জগৎ থেকে নাটকের দিকে একটু একটু করে ঝুঁকছেন মোহিত চট্টোপাধ্যায়। সে সময়ে পাইকপাড়ায়, ওঁর বাসবাড়িতে, রবিবারের সকালগুলো কাটত তোফা। আমাদের মতো তরুণ নাট্যজনদেরও আড্ডায় ছিল অবাধ প্রবেশাধিকার। এমনি করেই মোহিতদা এক দিন লিখে ফেললেন, ‘কণ্ঠনালিতে সূর্য’, ‘গন্ধরাজের হাততালি’। অ্যাবসার্ড নাটক, কিমিতিবাদী নাটকের ঢেউ আছড়ে পড়ল বাংলার নাট্য অঙ্গনে। নাটকের জোগান পেলেও মোহিতদার কাছ থেকে নাটক পাওয়াটা দুঃসাধ্য ছিল।
ইতিমধ্যে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র অবসর নেওয়ার পর আকাশবাণীর নাট্যবিভাগের দায়িত্বে এলাম আমি। প্রায় প্রতি মাসে মনোজ মিত্রের কাছে বেতার তখন তিনি স্টেজ আর ফিল্ম নিয়ে অনেক বেশি মেতে আছেন। অবশ্য মাঝে মাঝে চাপে পড়ে কথা দিতেন আবার কথার খেলাপও করতেন। এক দিন এসপ্ল্যানেডে মেট্রো সিনেমার কাছে দেখা। হাত নেড়ে কাছে এগিয়ে যেতেই দেখি জনারণ্যে কৌশল করে মিলিয়ে গেলেন। এক দিন রেগেমেগে ওঁকে বলি আপনি কি টাকা ধার করেছেন নাকি? এ বার ওঁর সরল স্বীকারোক্তি, ‘লেখাটা লেখার মতো না হলে দিই কী করে বলো তো?’
একটি স্ক্রিপ্টকে কত বার যে কাটাছেঁড়া করতেন, তার ঠিক নেই। অসম্ভব পারফেকশনিস্ট ছিলেন। এর পর আকাশবাণী ছেড়ে চলে গেলাম দূরদর্শনে, উনিও পাইকপাড়া ছেড়ে চলে গেলেন বারুইপুর। জেদ চেপে গেল ওঁকে দিয়ে একটা টেলি প্লে লেখাবই। প্রায়ই ছুটতে লাগলাম বারুইপুর। উনি চা খাওয়ান, জলখাবার খাওয়ান কিন্তু নাটকের কথা তোলেন না। এর পর প্রাতর্ভ্রমণকারী দুই বৃদ্ধ-বৃদ্ধার গল্প বলি ওঁকে। গল্পটি ব্যতিক্রমী ছিল। ওঁর পছন্দ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ছ’মাস ঘুরে ‘সহযাত্রী’ হাতে পেলাম। বার্ধক্যের একাকিত্ব দর্শকদের মন ছুঁয়ে গিয়েছিল।

আনন্দবাজার পত্রিকা

অন্যরা যা পড়ছেন

এই বিষয়ে আরও

জনপ্রিয়

সমস্ত ভিডিও

বর্ধমানে তরুণীর উপর অ্যাসিড হামলা

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 1 জন

কালো টাকা নিয়ে জেটলি যা বললেন

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 0 জন

দেব-শ্রাবন্তীর বিন্দাস প্রেম

শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস্

দেখেছেন 0 জন

তাপস পাল লোফার নন, ল' মেকার

এবিপি আনন্দ।

দেখেছেন 0 জন