বড়চর্চা

হকির জাদুকর ধ্যানচাঁদ

দীপঙ্কর গোস্বামী
কলকাতা, ২৩ জুন ২০১২

Dhyanchand

তিনটি অলিম্পিকে ধ্যানচাঁদ ভারতের সোনাজয়ী হকি দলের সদস্য ছিলেন। ছবি- ফাইল চিত্র

চল্লিশ বছর আগেকার ঘটনা। আমি তখন ওড়িশাতে স্টেট ব্যাঙ্কের কটক শাখায় জুনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত। স্টেট ব্যাঙ্কে গভর্নমেন্টের কাজ বেশি হয় বলে মাসের শুরুর দিকে ড্রাফ্ট ইস্যু ডেস্কের কাজের চাপ থাকত বেশি।
ডেস্কে বসে একের পর এক ড্রাফ্ট সই করে যাচ্ছি, হঠাৎ ড্রাফ্ট কেনার ফর্মে ক্রেতা হিসেবে বিশেষ এক জনের নাম ও সই দেখে থমকে গেলাম। পিওনকে বললুম কাউন্টারে গিয়ে ওই আবেদনকারীকে ডেকে আনতে।
ড্রাফ্ট ক্রেতাদের ভিড় থেকে সেই আবেদককে ডাকিয়ে আনিয়ে সসম্মানে নমস্কার করে বসালুম নিজের সামনে। বললুম, আপনি বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন কেন? ভিতরে চলে এলে আমি আপনাকে অপেক্ষায় না রেখে সবার আগে ছেড়ে দিতুম।
অতি নম্রতার সঙ্গে তিনি বললেন, কোনও বিশেষ সুবিধা নিতে তিনি চান না। আমি তখন সশ্রদ্ধ বিস্ময়ের সঙ্গে দেখছি ভদ্রলোককে, শুনছি তাঁর কথা আর বিশেষ ভাবে লক্ষ করছি তাঁর হাত দু’টিকে, যার জন্য মাঝারি উচ্চতার, রং ময়লা, সাধারণ দেখতে এই ব্যক্তিকে এক ডাকে সারা ভারত ও বিশ্ব চিনত। তিনটি অলিম্পিকে (১৯২৮, ১৯৩২, ১৯৩৬) উনি ভারতের সোনাজয়ী হকি দলের সদস্য ছিলেন। যার শেষেরটিতে (বার্লিন ১৯৩৬) ছিলেন অধিনায়ক। ১৯৫৯ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ উপাধিতে ভূষিত করে। সেই প্রবাদপ্রতিম হকির জাদুকর ধ্যানচাঁদ আমার সামনে বসে কথা বলছেন ভেবে খুবই অভিভূত বোধ করছিলাম। তাঁর কাছে জানলুম ওড়িশা সরকারের ক্রীড়া দফতর হকির মানোন্নয়নের, বিশেষ করে তফসিলি জাতি জনজাতির মধ্যে যোগ্য খেলোয়াড় সন্ধানের কোনও প্রকল্পের তদারকি করার জন্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁকে আমন্ত্রণ করে এনেছে। ওড়িশায় থাকাকালীন ঝাঁসিতে পরিবারকে টাকা পাঠানোর জন্যই তাঁর ড্রাফ্ট কিনতে ব্যাঙ্কে আসা।

আনন্দবাজার পত্রিকা

অন্যরা যা পড়ছেন

এই বিষয়ে আরও

জনপ্রিয়

সমস্ত ভিডিও

মোস্ট ওয়ান্টেড জামাই

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 105 জন

মহাকরণে মুরগি চমক

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 52 জন

বিষ রঙে 'বিষাক্ত' সবজি

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 65 জন

ফিরে আসছে সুপারম্যান

ওয়ার্নারব্রাদ্রার্সপিকচার্স

দেখেছেন 139 জন

কলকাতার ভিড়ে নাকাল রণবীর

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 119 জন