বড়চর্চা

অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়

শংকরপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়
কলকাতা, ১৮ অগস্ট ২০১২

Ajitesh Bandopadhyay

অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীরাও রিকশায় চড়তেন। ছবি-

সত্যি কত দিন আগের কথা। কিন্তু এখনও কেমন স্পষ্ট মনে পড়ে। আসলে কিছু স্মৃতি বোধ হয় গোটা জীবন ধরে জ্বলজ্বল করে। বয়েস তার ওপরে কোনও ভাবেই বিস্মৃতির পলি জমাতে পারে না।
সত্তর দশকের মাঝামাঝি। স্কুলে পড়ি। নাটকে অভিনয় শুরু করেছি। চোখে স্বপ্ন শম্ভু মিত্র হব, অজিতেশ হব, রুদ্রপ্রসাদ হব। এরই মধ্যে অজিতেশ অভিনীত দু’টি নাটকে একটি রেকর্ড বেরোল ‘নানা রঙের দিন’, ‘তামাকু সেবনের অপকারিতা’। ‘নানা রঙের দিন’ শুনে পাগল হয়ে গেলাম। এটা মঞ্চস্থ করবই। কিন্তু রেকর্ডের গায়ে লেখা সাবধানবাণী: অভিনেতার অনুমতি ছাড়া এই নাটক মঞ্চস্থ করা যাবে না। কোথায় পাব অজিতেশের অনুমতি!
সুযোগ এসে গেল। স্থানীয় একটি রঙ্গমঞ্চে একটি অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হয়ে এলেন। অন্ধকারে গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে আছি। প্রায় ৪৫ মিনিট পরে তিনি বেরোলেন। রিকশা ঠিক করাই ছিল। তিনি রিকশায় বসলেন (হ্যাঁ, তখন অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীরাও রিকশায় স্টেশন যেতেন, ট্রেনে বাড়ি ফিরতেন)।
পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করলাম। তিনি বললেন, ‘ছি, ছি, পায়ে হাত দিচ্ছ কেন, ভাই?’ করজোড়ে মিনতি জানালাম।
হা হা করে সেই প্রাণখোলা হাসি, ‘আরে, ও সব রেকর্ডে লিখতে হয়। কোনও অনুমতির দরকার নেই। আমার চেয়েও ভাল করবে।’ এই বলে দুটো হাত আমার মাথায় বুলিয়ে দিয়ে চলে গেলেন। আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো দাঁড়িয়ে রইলাম।
কেটে গিয়েছে বহু বছর। ‘নানা রঙের দিন’ আমার আর মঞ্চস্থ করা হয়নি। আমি এখন পঞ্চাশোর্ধ্ব প্রৌঢ়ত্বে। সংসার আর কর্মক্ষেত্রই আমার জীবন। আমার নানা রঙের দিনেরা এখন শুধুই সাদা-কালো। তবু এরই মধ্যে সেই বিশাল দু’টি হাতের স্নেহস্পর্শ যখনই অনুভব করি, চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে যায়।

আনন্দবাজার পত্রিকা

অন্যরা যা পড়ছেন

এই বিষয়ে আরও

জনপ্রিয়

সমস্ত ভিডিও

"যাকেই বসাবে সে'ই হবে আমাদের লোক"

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 58 জন

পাক্কা ঘুঘুর মেয়েবাজি

এসকেমুভিজ

দেখেছেন 131 জন

হক কথা বললেন অনুব্রত

এবিপি আনন্দ

দেখেছেন 344 জন