সমালোচনা
কলকাতায় শোভা দে
শর্মিষ্ঠা দত্ত
কলকাতা, ২১ জানুয়ারি, ২০১৩
পুরুষকে বুঝতে তাঁর সময় লাগে দশ মিনিট। পুরনো এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেছিলেন শোভা দে। নামটা মনে পড়িয়ে দেয় অনেক কিছু। ‘স্টারি নাইটস’ নামে বলিউডের সেই গোপন শয়নকক্ষের গল্প কিম্বা ‘স্পাউজ’, যে লেখা প্রশ্ন তুলেছিল বিবাহব্যবস্থার কাঠামোটা নিয়েই। সোশ্যালাইট ইভনিংস, স্টারি নাইটস, স্পাউজ কিংবা সুপারস্টার ইন্ডিয়া-র মতো বেস্টসেলারের লেখক এসেছিলেন এ শহরে। ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে এপিজে লিটারারি ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শ্যাম বেনেগলের পাশে দেখা গেল তাঁকে। উৎসবের সূচনা-বক্তৃতা দিতে এসেছিলেন শ্যাম। বললেন ভারতীয় সিনেমার একশো বছর নিয়ে। আর সেই একশো বছরের অনেকটাই তো ঝাঁ-চকচকে বলিউডের, যার অন্দরমহলে হানা দিয়েছিল শোভা দে-র কলম।
সে কলম এখনও সক্রিয়। এই জানুয়ারিতে তাঁর বয়স হল চৌষট্টি। কিন্তু তাতে কী, অমন চনমনে কলম যাঁর, তরতরিয়ে বয়ে চলা, বইয়ে দেওয়া গদ্য যাঁর, সংখ্যাটা তাৎপর্যপূর্ণ হলেও বয়সটা তাঁর কাছে কোনও ফ্যাক্টর নয়। আর তাঁর সাম্প্রতিক উপন্যাসটি, খানিকটা সমাপতনের মতোই তার সঙ্গে যেন দূরসংযোগ তৈরি হয়ে যায় সাম্প্রতিক উত্তাল রাজধানীর। একটু বলা যাক পেঙ্গুইন প্রকাশিত বইটির মূল গল্প। দিল্লির রাজনীতিতে ‘শেঠজি’-র অবস্থানটা এখন একটু নড়বড়ে। জরুরি একটা দলীয় মিটিংয়ের দিন সকালে শেঠজি খবর পেলেন তাঁর ছোট ছেলে একটি মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। গ্রেফতারি এড়াতে তড়িঘড়ি শেঠজি ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর ব্যবস্থা করলেন। সেই ব্যাপারে এবং মিডিয়াকে সামলাতে তাঁকে প্রভূত সাহায্য করলেন তাঁর পুত্রবধূ। ঘটনা ক্রমেই গড়িয়ে চলল। না, এ সত্যি নয় একেবারেই, গল্প, উপন্যাসের। নিজের সাম্প্রতিক এই উপন্যাসটি, শেঠজি (পেঙ্গুইন ইন্ডিয়া)-র আনুষ্ঠানিক প্রকাশ হল দ্য পার্কে, ‘এপিজে কলকাতা লিটারারি ফেস্টিভ্যাল’-এ। উপস্থিত ছিলেন রাখী সরকার ও ঋতা ভিমানী-ও।













